সুজন আশাবাদী ফাহিমের সাত পরিকল্পনা

জান-ই-আলম

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আসন্ন পরিচালনা পরিষদ নির্বাচনে ক্যাটাগরি-৩-এর একটি পরিচালক পদে প্রার্থী দুজন। ভোটের লড়াইয়ে শামিল হবেন বিসিবির বর্তমান পরিচালক, কোচ, সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ সুজন এবং দেশের প্রখ্যাত কোচ, সাকিব-মুশফিকদের গুরু নাজমুল আবেদীন ফাহিম।

এই ক্যাটাগরিতে মোট ভোটার ৪৩ জন, যার মধ্যে ২২ জনই সশরীরে ভোট দিবেন না। তাদের পোস্টাল, ই-ভোটের কারণে ভোট উত্সব হবে না। এর মধ্যেই টানা আট বছর পরিচালক থাকা সুজন নির্বাচন জয়ে পূর্ণ আশাবাদী। ২০২০ সালে তার অধীনে আকবর আলীদের বিশ্ব জয়ের ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ।

ভোটে নতুন মুখ হলেও বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের রন্ধ্রে রন্ধ্রে লেখা আছে ফাহিমের অবদান। হাজার হাজার ডলারে বিদেশি কোচ রাখলেও এখনো বিশ্বসেরা সাকিবদের আস্থার আশ্রয় তিনি। প্রায় চার দশক কোচ, মেন্টর, প্রশাসক হিসেবে কাজ করেছেন দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে। সেই কাজের অভিজ্ঞতার আলোকে এবার পরিচালক হয়ে দেশের ক্রিকেটের নীতি-নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে চান ফাহিম। ভোটারদের কাছে তুলে ধরছেন নিজের সাত পরিকল্পনা।  

বিসিবির গেম ডেভলপমেন্ট বিভাগে গত আট বছরে নিজের কাজের মূল্যায়ন নির্বাচনে পাবেন, এমন আশাবাদ জানিয়ে গতকাল সুজন বলেছেন, ‘ভোটারদের সাড়া প্রতিক্রিয়া ভালো। আমিও আশাবাদী। কিন্তু নির্বাচন বলে কথা, যতক্ষণ নির্বাচন না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত কিছু বলা যাবে না।  অবশ্যই আমি বিশ্বাস করি যে আমি গত আট বছরে ভালো কিছু কাজ করেছি, যার ফলও পেয়েছি। গত বছর বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এটা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য বড় সাফল্য অবশ্যই। যেহেতু গেম ডেভলপমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান আমি, কিছুটা হলেও বলতেই পারি আমি সফল ছিলাম। তাই আশা করতেই পারি ভোটে সবাই আমাকে সমর্থন দিবে।’

‘সবার জন্য ক্রিকেট’—মন্ত্র বুকে ধারণ করেই ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন ফাহিম। তার সাতটি লক্ষ্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—কাউন্সিলরদের নিয়ে লিডারশিপ গ্রুপ তৈরি, দেশব্যাপী ক্রিকেট কাঠামোর উন্নয়ন, ক্রিকেটের মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে বিদেশিদের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো, বিশ্ববিদ্যালয়-শিক্ষা বোর্ড-সংস্থাগুলোকে মূল ধারায় সম্পৃক্ত করা, সবার জন্য ক্রিকেট ধারণটি দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া।

পোস্টাল, ই-ভোটের সংখ্যা অনেক হওয়ায় মনে উঁচাটান রয়েছে ফাহিমের। তবে স্রোতের বিপরীতে লড়াই করার মনোবলে বলীয়ান তিনি। গতকাল বলেছেন, ‘আমি আশাবাদী। তবে নির্বাচনের বিষয় তো। এটা অনুমান করাটা খুব মুশকিল। কিন্তু যাদের সাথে কথা হচ্ছে, সবাই শিক্ষিত, তাদের সাড়া আমার কাছে ভালো লাগছে।’

সরে দাঁড়ালেন খালিদ হোসেন ইয়াদ

বিসিবি নির্বাচনে ক্যাটাগরি-১-এ ঢাকা বিভাগ থেকে পরিচালক প্রার্থী ছিলেন খালিদ হোসেন ইয়াদ আলী। নির্বাচন থেকে বিরত থাকতে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছেন তিনি। যদিও ৩০ সেপ্টেম্বর ছিল প্রত্যাহারের শেষ দিন। গতকাল ইয়াদ আলী বলেছেন, ‘আমি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালাম। আমি ভোটারদের জানিয়ে দিয়েছি। নির্বাচন কমিশনকেও চিঠি দিয়েছি।’ তারপরও প্রার্থী তালিকায় থাকবে তার নাম। এখানে দুটি পদের বিপরীতে প্রার্থী চার জন।