বিতর্কিত ভিডিও ভাইরাল

গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীরকে আওয়ামী লীগের শোকজ

বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ‘বিতর্কিত মন্তব্যে’র ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে শোকজ করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের স্বাক্ষরিত এ শোকজের চিঠিতে দলীয় স্বার্থ পরিপন্থি কর্মকাণ্ড ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না—তা ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তাকে জানাতে বলা হয়েছে। গতকাল রবিবার নোটিশটি জাহাঙ্গীর আলমের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া।

এক সপ্তাহ আগে ছড়িয়ে পড়া চার মিনিটের ঐ ভিডিওতে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ ছাড়াও যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খান, হেফাজতের প্রয়াত নেতা জুনায়েদ বাবুনগরীর সঙ্গে তার সখ্য ও রাষ্ট্রীয় দুটি সংস্থা নিয়ে নানা আপত্তিকর মন্তব্য করছেন মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। একটি ঘরোয়া আয়োজনে তিনি এসব নিয়ে কথা বলেন। তবে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির প্রথম দিকে মেয়র জাহাঙ্গীরকে নীল রঙের জামা পরে চেয়ারে বসে কারো সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়, কিন্তু  বাকি অংশে শুধু অডিও বক্তব্য শোনা যায়। যার কিছু কিছু অংশ ছিল অস্পষ্ট। ভিডিওটি কে বা কারা কবে ধারণ করেছেন, সেটি জানা যায়নি। কারাই বা সেটি ফেসবুকে ছেড়েছে, সেটিও অজানা।

এ বিষয়ে গতকাল জাহাঙ্গীর আলম ইত্তেফাককে বলেন, ‘ভিডিওটির কণ্ঠটি আমার নয়। একটি মহল যারা গত নির্বাচনে আমার বিরোধিতা করেছিল তারাই আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করে একটি এডিটেড ভিডিও বের করেছে, যা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। আজকে (রবিবার) কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ একটি শোকজ দিয়ে আমার কাছে ঘটনা জানতে চেয়েছে। আমি যথা সময়ে এর জবাব দিয়ে দেব। আমি দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত মেনে নেব।’

এদিকে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা মেয়রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন। সম্প্রতি নগরীর বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এসব কর্মসূচি থেকে জাহাঙ্গীর আলমের কুশপুতুল দাহ, ঝাড়ু মিছিলসহ দল থেকে তাকে বহিষ্কারের দাবি জানানো হয়েছে। তবে মেয়রের অনুসারীরা বলছেন, গত তিন বছরে গাজীপুরে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল মেয়রকে বিতর্কিত করতে এমন বক্তব্য প্রচার করছে।