দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের নমুনা পরীক্ষার নির্দেশ

দেশে উত্পাদিত প্যাকেটজাত দুধ, দুগ্ধজাত পণ্য ও গো-খাদ্যের নমুনা বাজার থেকে সংগ্রহ করে তা পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে পরীক্ষাসংক্রান্ত ওই প্রতিবেদন দুই সপ্তাহের মধ্যে আদালতে দাখিল করতে বিএসটিআই, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও কেন্দ্রীয় নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটিকে বলা হয়েছে। বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কেএম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল সোমবার স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এই আদেশ দেন। আদালত বলেন, খাদ্যে ভেজাল মেশানো বড় ধরনের দুর্নীতি। ভেজাল খাবার খেয়ে মানুষের কিডনি, লিভার নষ্ট হচ্ছে। রেহাই পাচ্ছে না ক্যান্সারের হাত থেকেও।

গাভির দুধে (প্রক্রিয়াজাতকরণ ছাড়া) সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি কীটনাশক ও নানা ধরনের অ্যান্টিবায়োটিকের উপাদান পাওয়া গেছে। পাওয়া গেছে বিভিন্ন অণুজীবও। একই সঙ্গে প্যাকেটজাত গাভির দুধেও অ্যান্টিবায়োটিক ও সিসা পাওয়া গেছে মাত্রাতিরিক্ত। বাদ পড়েনি দইও। দুগ্ধজাত এই পণ্যেও মিলেছে সিসা। এছাড়া প্রায় সব গো-খাদ্যে সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ফুড সেফটি ল্যাবরেটরির (এনএফএসএল) গবেষণায় এসব ফলাফল উঠে এসেছে।

সংস্থাটি জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) আর্থিক সহায়তায় গাভির খাবার, দুধ, দই ও প্যাকেটজাত দুধ নিয়ে এই জরিপের কাজ করেছে। জরিপ সংক্রান্ত এই ফল গতকাল বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত প্রতিবেদন আদালতের সামনে তুলে ধরেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিনউদ্দিন মানিক ও দুদক কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট সৈয়দ মামুন মাহবুব। তিনি বলেন, দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য শিশু থেকে বয়স্ক সকলেই খেয়ে থাকে। এই খাদ্যপণ্যের মান বজায় রাখার জন্য বেশ কিছু সরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু তারা কি করছে? সঠিকভাবে নজরদারি যদি থাকত তাহলে ভেজাল খাদ্যে বাজার সয়লাব হতো না। ভেজাল খাদ্য খেয়ে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। খাদ্য পণ্যের সঠিক মান বজায় না রাখাও বড় ধরনের দুর্নীতি।

এ পর্যায়ে আদালত বলেন, মানুষ শুধু অর্থের পেছনে দৌড়াচ্ছে। দেশ ও দেশের মানুষ নিয়ে কেউ ভাবছেন না। জনগণের স্বাস্থ্য যদি ঠিক না থাকে তাহলে এত অর্থ দিয়ে কি হবে?

শুনানি শেষে হাইকোর্ট এ বিষয়ে অনুসন্ধান, তদন্ত করে ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে দুদককে নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কেন সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া এবং কেন্দ্রীয় নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটির নিষ্ক্রিয়তাকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে।