ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা
মো: কবির হোসেন (সুজন), সিনিয়র প্রভাষক
ব্যবস্থাপনা বিভাগ
নিকুঞ্জ মডেল কলেজ, ঢাকা।
ব্যবস্থাপনার সর্বজনীনতা বলতে সকল ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনার উপস্থিতিকে বোঝায়। অর্থাত্ পরিবার থেকে শুরু করে সমাজ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠান সকল ক্ষেত্রে
ব্যবস্থাপনা উপস্থিতিকে ব্যবস্থাপনার সর্বজনীনতা
বলা হয়।
প্রিয় ২০২১ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীবৃন্দ, অনুশীলন বিভাগে তোমাদের স্বাগত। দীর্ঘদিন শ্রেণিকক্ষে পাঠদান বন্ধ থাকার পর আবার আমরা স্কুল ও কলেজে আসতে পারছি। তোমাদের জন্য ২০২১ সালে অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষায় সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে যে কয়েকটি অধ্যায় যুক্ত করা হয়েছে তার আলোকে অধ্যায়ভিত্তিক ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ের দ্বিতীয়পত্রের প্রথম অধ্যায় থেকে কিছু উদ্দীপক দেওয়া হলো। আশা করি তোমরা উপকৃত হবে।
উদ্দীপক:আবদুল্লাহ আল জাওয়ার এর বাবা একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের কোম্পানি সচিব। তিনি প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রণয়নে সরাসরি সম্পৃক্ত। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের নীতি নির্ধারণী কৌশল নির্ধারণে যথাযথ তথ্য উপাত্ত সরবরাহ করা, যথাসময়ে কোম্পানির সভা অনুষ্ঠান, সভা পরিচালনাসহ বিভিন্ন ধরনের সাচিবিক দায়িত্ব পালন করে থাকেন। তবে মি. ইমরান নামের একজন তত্ত্বাবধায়ক প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনাগুলো মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন।
ক) ব্যবস্থাপনা কী?
খ) ব্যবস্থাপনার সর্বজনীনতা বলতে কী বোঝায়?
গ) উপরের উদ্দীপকে জাওয়ারের বাবা কোন র্পর্যায়ের ব্যবস্থাপনার সাথে জড়িত? আলোচনা করো।
ঘ) উদ্দীপকে উল্লেখিত দুটি স্তরের মধ্যে কার মানসিক পরিশ্রম তুলনামূলক কম? তোমার মতামত দাও।
উদ্দীপকের ক নং প্রশ্নের উত্তর: প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ অর্জনের উদ্দেশ্যে পরিকল্পনা প্রণয়ন হতে শুরু করে সংগঠন এবং নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে উপায় উপকরণ ও সম্পদকে কাজে লাগানোর সকল প্রক্রিয়াকে ব্যবস্থাপনা বলা হয়।
উদ্দীপকের খ নং প্রশ্নের উত্তর:ব্যবস্থাপনার সর্বজনীনতা বলতে সকল ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনার উপস্থিতিকে বোঝায়। অর্থাত্ পরিবার থেকে শুরু করে সমাজ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠান সকল ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা উপস্থিতিকে ব্যবস্থাপনার সর্বজনীনতা বলা হয়।
ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়ায় সম্পাদিত সব কাজ যেমন পরিকল্পনা, সংগঠন, কর্মীসংস্থান, প্রেষণা, নির্দেশনা, সমন্বয় সাধন ও নিয়ন্ত্রণ যেমন বড় ধরনের প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য তেমনি এটি সাধারণ প্রতিষ্ঠানেও লক্ষ অর্জনের জন্য এটি প্রয়োজন হয়। প্রতিষ্ঠান ছাড়াও ব্যবস্থাপনা পরিবার থেকে শুরু করে সমাজ, রাষ্ট্র সকল ক্ষেত্রে পরিব্যাপ্ত। অর্থাত্ সকল ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনার উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। তাই গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস প্রায় আড়াই হাজার বছর পূর্বে বলেছিলেন, ‘ব্যবস্থাপনা একটি সর্বজনীন বিষয়’।
উদ্দীপকের গ নং প্রশ্নের উত্তর:উপরের উদ্দীপকে জাওয়ারের বাবা উচ্চস্তরের ব্যবস্থাপনার সাথে জড়িত।
প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য ও নীতি নির্ধারণ এবং দীর্ঘ মেয়াদী লক্ষ, কৌশল, পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং মানসিক ও বুদ্ধিভিত্তিক কার্যের সাথে যে বা যারা সম্পৃক্ত থাকেন তাদেরকে উচ্চস্তরের ব্যবস্থাপক বলা হয়।
উপরের উদ্দীপকে প্রতিষ্ঠানের কোম্পানি সচিব প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রণয়নে সরাসরি সম্পৃক্ত। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের নীতি নির্ধারণী কৌশল নির্ধারণে যথাযথ তথ্য উপাত্ত সরবরাহ করা, যথাসময়ে কোম্পানির সভা অনুষ্ঠান, সভা পরিচালনাসহ বিভিন্ন ধরনের সাচিবিক দায়িত্ব তিনি পালন করে থাকেন। যেহেতু তিনি পরিকল্পনা প্রণয়নের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত সেহেতু তিনি প্রতিষ্ঠানের উচ্চস্তরের ব্যবস্থাপক।
উদ্দীপকের ঘ নং প্রশ্নের উত্তর:উপরের উদ্দীপকে নিম্নস্তরের ব্যবস্থাপনার কথা বলা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানের উচ্চস্তরের ব্যবস্থাপকদের প্রণীত নীতি, কৌশল ও সিদ্ধান্ত বাস্তবে রূপায়িত করেন যে পর্যায়ের ব্যবস্থাপক তাদেরকে নিম্ন পর্যায়ের ব্যবস্থাপক বলা হয়।
উপরের উদ্দীপকে মি. ইমরান নামের একজন তত্ত্বাবধায়ক প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনাগুলো মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন। এর অর্থ হলো তিনি মধ্য পর্যায়ের ব্যবস্থাপকদের নির্দেশনা সমূহ বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা চালায় এবং মাঠ পর্যায়ে তিনি কাজ করে থাকে। মূলত যে বা যারা মাঠ পর্যায়ে কাজ করে থাকেন তাদেরকে নিম্ন পর্যায়ের ব্যবস্থাপক কলা হয়।
উদ্দীপকে উচ্চস্তর এবং নিম্নস্তর দুটি পর্যায়ের ব্যবস্থাপকদের কথা বলা হয়েছে। দুটির মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের ব্যবস্থাপকগণ শারীরিকের তুলনায় মানসিক শ্রম বেশি করে থাকেন এবং নিম্ন পর্যায়ের ব্যবস্থাপক মানসিক শ্রমের তৃুলনায় শারীরিক শ্রম বেশি করে থাকেন। তাই মি. ইমরান যেহেতু নিম্ন স্তরের ব্যবস্থাপক বা তত্ত্বাবধায়ক সেহেতু তাহার মানসিক শ্রম কম এবং শারীরিক শ্রম বেশি।