এই সময়ের ছড়া
সারওয়ার-উল-ইসলাম
ছায়া সুনিবিড় সুবর্ণপুর, ইশকুল সেই গ্রামে
‘ভুবনমোহিনী’ নামটি দেখলে পথিকের দু পা থামে।
সেই ইশকুল টিনের তৈরি বৃষ্টিতে ঝমঝম
গ্রামের মানুষ শান্ত নিরীহ, ছাত্র খুবই কম।
বাংলা পড়ান সেই ইশকুলে সিরাজুল ইসলাম
নিপাট ভদ্র মানুষ যেমন গ্রামে তাঁর খুব নাম।
ধবধবে সাদা পাঞ্জাবি গায়ে পায়জামাটাও সাদা
কম কথা বলা স্বভাবের তিনি জীবন নিয়মে বাঁধা।
নদীর পাড়েই ঘরখানি তাঁর দেখেন নদীর ঢেউ
একাই থাকেন ছোট ঘরে তাঁর সংসারে নেই কেউ।
অন্য স্যারেরা টিউশনি করে কামান বাড়তি টাকা
বাংলা কি কেউ প্রাইভেট পড়ে? মানিব্যাগ তাই ফাঁকা।
ইশকুল তার সন্তান যেন দিনের সিংহ ভাগ—
সময়ে থাকেন টিচার রুমেই নেই অভিমান রাগ।
অভিযোগ নেই অনুযোগ নেই পড়ান ভীষণ ভালো
ছাত্ররা খুব অনুগত, যেন তাঁর দুচোখের আলো।
কোনো ছাত্রের পেন্সিল খাতা না থাকলে কিনে দেন
পড়া না বুঝলে বিরক্তি নেই বারবার পড়া নেন।
চাওয়াপাওয়া নেই সিরাজ স্যারের বাংলা শেখানো ছাড়া
শুদ্ধ ভাষায় বলবে বাক্য—ছাত্রকে দেন তাড়া।
ফেব্রুয়ারির একুশ তারিখ শহিদ মিনারে যান
ফুল হাতে নিয়ে গুনগুন করে মুখেতে ভাষার গান।
নদীর পাড়ের মেঠোপথ দিয়ে একলা একলা হেঁটে
সিরাজ স্যারের কখনো-সখনো বিকেলটা যায় কেটে।
‘ভুবনমোহিনী’ ইশকুলটার প্রাণ যেন এই স্যার
নদীর হাওয়ারা চুপিচুপি এসে বলে যায় কথা তাঁর।
পাড়ের মাটিরা চাক ধরে ধরে নদীতে যখন পড়ে
সিরাজ স্যারের শরীরে কাঁপন, মনটা কেমন করে।
ইশকুল যদি ভাঙনের মুখে নদীতে বিলীন হয়
নিশিরাতে স্যার ভাঙন-শব্দ শুনে শুধু পান ভয়।
স্যারের জন্য ‘ভুবনমোহনী’ অক্ষত হয়ে থাক
সারা বাংলার সিরাজ স্যারেরা দীর্ঘ জীবন পাক।