ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নিজের অভিনয় নিয়ে দারুণ সচেতন অভিনেতা ফারহান আহমেদ জোভান। নাটক ও বিজ্ঞাপনে সমানতালে কাজ করে প্রতিনিয়ত দর্শকপ্রিয়তার পাশাপাশি প্রশংসা কুড়াচ্ছেন তিনি। নিজের অভিনয় ভাবনাসহ নাট্যাঙ্গন ও ওটিটির নানা বিষয় নিয়ে তিনি কথা বললেন ইত্তেফাকের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল
বর্তমানে হাতে কোন কাজগুলো রয়েছে?
কয়েকটি নাটকের কাজ নিয়ে ব্যস্ততা চলছে। আসলে আমাদের তো উত্সবগুলোকে কেন্দ্র করে কাজের চাপ বেশি থাকে। সেই জায়গায় সামনে তেমন কোনো বিশেষ দিবস না থাকায় আগের চেয়ে তুলনামূলক কম কাজ করা হচ্ছে।
বেশিরভাগ নাটকে শহর কেন্দ্রিক রোমান্টিক চরিত্রে আপনার দেখা মেলে। এটা কী দর্শক চাহিদার কারণে?
হ্যাঁ, এ ধরনের কাজ বেশি করার কারণ হিসেবে অবশ্যই দর্শক চাহিদাকে সামনে আনবো। তারা হয়তো আমাকে এমন চরিত্রেই বেশি দেখতে চান। একজন অভিনেতা হিসেবে আমারও দায়িত্ব তাদের চাহিদার বিষয়গুলো মাথায় রেখে অভিনয় করা। তবে একই ধরনের চরিত্রে অভিনয় করছি, বিষয়টি তেমনও না।
অনেকেই অভিযোগ করেন ক্যারিয়ারের শুরুতে নতুনরা সুযোগ বঞ্চিত হন। সেই জায়গা থেকে আজকের জোভান হওয়ার পথ কতটা মসৃণ ছিল?
প্রতিটি মাধ্যমেই এই সমস্যা রয়েছে। প্রত্যেকেরই শুরুর পথ মসৃণ থাকে না। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সবাইকেই অনেক স্ট্রাগল করতে হয়, বন্ধুর পথ পাড়ি দিতে হয়। আমারও শুরুর পথটি মসৃণ ছিল না। আসলে কঠোর পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই। কোনোকিছু সহজে পাওয়ার আশা করাও বোকামি। সততার সঙ্গে কাজ করলে সফলতা আসবেই।
ভিউ গুণে নাটকের মান ও স্টার নির্ধারণের চর্চাকে কীভাবে দেখছেন?
আমি ভিউকে খারাপভাবে কখনো দেখি না। কারণ এটা তো কোনো রোবট দেখছে না, মানুষই দেখছে। আগে নাটকটি দেখলেও কতজন দেখছে সেটা বোঝার উপায় ছিল না। কিন্তু এখন সেটা হিসেবে করার একটি মাধ্যম তৈরি হয়েছে।
এখন একটি নাটকে বিভিন্ন অঞ্চলের ভাষার মিশ্রণ ঘটানো হচ্ছে। এতে বাংলা ভাষা সম্পর্কে মানুষের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছাচ্ছে না?
দেখুন, ভাষা বিকৃত করা হচ্ছে, এটা আমি বলবো না। আমরা আসলে চলতি বা বিভিন্ন অঞ্চলের প্রচলিত ভাষাকে প্রাধান্য দিচ্ছি। এতে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগটা ভালো হচ্ছে। তারা শুনে মনে করছে আমার পাশের বাড়ির ছেলের কথা শুনছি।
ওটিটি নিয়ে জোভানের পরিকল্পনা ও প্রত্যাশার জায়গা কোথায়?
ওয়েব সিরিজ বা ওয়েব ফিল্ম নিয়ে আমার অনেক বেশি প্রত্যাশা রয়েছে। ভবিষ্যতে হয়তো আমরা অনেক ভালো অবস্থানে নিয়ে যেতে পারব আমাদের প্লাটফর্মগুলোকে। নাটকের চেয়ে এই প্লাটফর্মগুলোতে আমরাও একটু বেশি সময় দেব। কারণ এখানে ভালো গল্পের সঙ্গে বাজেটও ভালো থাকবে।
নাটকের মতো ওয়েব কন্টেন্টগুলো বেশ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। তাহলে কী নাটকের মতো আরো একটি জনপ্রিয় বিনোদন মাধ্যম পাচ্ছি আমরা?
অবশ্যই, আমরা নতুন একটি মাধ্যম পাচ্ছি। এরইমধ্যে কিন্তু নাটকের মতো বেশ কিছু ওয়েব কন্টেন্ট দর্শকদের কাছে প্রশংসিত হয়েছে। ভবিষ্যতেও আরো ভালো ভালো কাজ আমরা পাবো, এই আশা করতেই পারি।
কিন্তু মাধ্যমটির বেশ কিছু প্রশংসিত হলেও সিন্ডিকেটের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। এতে আপনাদের কাজের সুযোগ কতটা থাকবে মনে করছেন?
আমি এখনো সিন্ডিকেটের মতো কিছু দেখিনি। সবকিছু ঠিকঠাকই চলছে বলে মনে হচ্ছে। আমরা তো নাটকের মানুষ। নাটকের জায়গাতেই সাচ্ছন্দ্যবোধ করি। বেশি সময় দিয়ে ওটিটিতে আমরা কম কাজ করছি। তাই হয়তো এমনটা মনে হচ্ছে।