ফুলবাড়ীতে ড্রামের ভেলায় নীলকমল নদ পারাপার!

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা

ফুলবাড়ীর বড়ভিটা ইউনিয়নের ধনিরাম এলাকায় নীলকমল নদের ওপর নির্মিত কাঠের সেতুটি ২০২০ সালের বন্যায় ভেঙে যায়। পুনরায় কাঠের সেতুটি  তৈরি না হওয়ায় ড্রামের ভেলা দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে নদ পারাপার হচ্ছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, চার বছর আগে বড়ভিটা ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে নীলকমল নদের ওপর একটি কাঠের সেতু নির্মাণ করা হয়। এরপর থেকে বড়ভিটা ইউনিয়নের ধনিরাম, বুড়ির চর, চরমেখলি, চরধনিরাম, ঘোগারকুটিসহ পাঁচ গ্রামের শিক্ষার্থীসহ প্রায় ১৫ হাজার মানুষ এই সেতু ব্যবহার করতেন। কিন্তু ২০১৯ সালে আম্ফানের আঘাতে কাঠের সেতুটি ভেঙে যায়। এতে দুর্ভোগে পড়েন স্থানীয়রা। পরে এলাকাবাসী নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে ভেঙে যাওয়া সেতু মেরামত করেন। কিন্তু ২০২০ সালের বন্যায় আবারও সেতুটি ভেঙে যায়। এরপর আর সেতুটি নির্মাণ করা হয়নি। এখন তারা ড্রামের ভেলা তৈরি করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা কমলা কান্ত রায়, আব্দুল হাই ও আসমত আলীসহ অনেকেই জানান, কাঠের সেতুটি দিয়ে আমরা দীর্ঘদিন নদী পার হয়েছি। সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় এখন আমাদের দুর্ভোগ বেড়েছে। মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে ড্রামের ভেলা দিয়ে নদী পার হতে হচ্ছে। অভিভাবক ফাতেমা বেগম জানান, আমার ছেলে ফুলবাড়ী ডিগ্রি কলেজে পড়ে। সেতু না থাকায় সে কলেজে যেতে চায় না। শুধু আমার ছেলেই নয়, এই এলাকার অধিকাংশ স্কুল-কলেজে পড়া ছেলেমেয়ে ড্রামের ভেলায় নদী পার হতে ভয় পায়। তিনি আরো জানান, ছেলেমেয়েদের স্কুল-কলেজে যাওয়াটা খুবই জরুরি। তাই দ্রুত এখানে একটি সেতু নির্মাণ জরুরি। ধনিরাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আইরিন আক্তার জানান, প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থীর বাড়ি নীলকমল নদের ওপারে। সেতু না থাকায় ওপারের শিক্ষার্থীর উপস্থিতি খুবই কম।

বড়ভিটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খয়বর আলী মিয়া জানান, সেতু নির্মাণের বিষয়টি এলজিএসপি প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত আছে। সামনের শুকনো মৌসুমে একটি কাঠের সেতু নির্মাণ করা হবে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন দাস জানান, বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের জানা আছে। শিগিগরই সেতু নির্মাণের জন্য কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।