কলমীগাড়া বিলে পদ্মের সমারোহ

হেলালুর রহমান জুয়েল, চাটমোহর (পাবনা) সংবাদদাতা

চাটমোহর উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের সুঁইগ্রাম মৌজায় অবস্থিত কলমীগাড়া বিলটি ভরে গেছে পদ্মফুলে। এর সৌন্দর্য শুধু এলাকার মানুষকেই নয়, দূর-দূরান্ত থেকে অনেক মানুষকে কাছে টানছে। প্রতি রাতে পদ্মফুল ফুটছে কলমীগাড়া বিলে। সকালের হালকা রোদে ঊর্ধ্বমুখী ফুলগুলো নজর কাড়ছে প্রকৃতিপ্রেমীদের। রোদের প্রখরতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ক্রমশই প্রস্ফুটিত ফুল সংকুচিত হতে থাকে। পরবর্তী রাতে আবার সেগুলো প্রস্ফুটিত হচ্ছে। এভাবে বেশ কিছু দিন যাবত্ সৌন্দর্য বিলোয় কলমীগাড়া বিলের সাদা-গোলাপি পদ্মফুলগুলো। চাটমোহরের খাল-বিলে এক সময় প্রচুর পদ্মফুল দেখা গেলেও এখন তা প্রায় বিলুপ্তির পথে।

জানা যায়, কন্দজাতীয় বহু বর্ষজীবী জলজ উদ্ভিদ পদ্মফুলের আদি নিবাস দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। পানির নিচে মাটিতে পদ্মের কন্দ মূল থাকে। পানির উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে গাছের উচ্চতাও বৃদ্ধি পায়। সবুজ রঙের গোলাকার পাতাগুলো বেশ পুরু হয়ে থাকে। পাতার বোঁটা লম্বা হয়, ভেতরের অংশ ফাঁপা থাকে। ফুলের ডাঁটার ভেতরের অংশে ছোট-ছোট অনেক ছিদ্র থাকে। ফুলগুলো আকারে বেশ বড় হয়। এগুলো নরম কোমল পাপড়ির সমন্বয়ে সৃষ্টি। মিষ্টি সুগন্ধযুক্ত মনলোভা তাজা ফুল মানুষ ও কীট-পতঙ্গকে আকৃষ্ট করে।

চাটমোহরের সুঁইগ্রামের বাসিন্দা মো. আতাউর রহমান জানান, কলমীগাড়া বিলে সাধারণত বর্ষা মৌসুমে পদ্মফুল ফোটা শুরু হয়। শরত্কালে অধিক ফুল ফোটে। এখানে কেউ পদ্মফুলের চাষ করে না। বছরের পর বছর ধরে প্রাকৃতিকভাবে এ বিলে পদ্মফুল ফুটে আসছে। বিলের নিচু এলাকার কিছু জমি চাষাবাদের আওতায় আসায় পদ্ম বিলের পরিধি অতীতের চেয়ে এখন অনেক কমে গেছে। এখন বর্ষার শুরুর দিকে ১৫ একর জলাশয়ে পদ্মফুল দেখা গেলেও পানি বাড়লে বর্ষার শেষ দিকে এসে প্রায় ২৫ একর জলাভূমিতে পদ্মফুল ফোটে।

দর্শনার্থী ও সংবাদকর্মী তুষার ভট্টাচার্য্য জানান, গ্রামবাংলায় পদ্মফুল বেশ পরিচিত। পদ্মফুল হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষের কাছে অতি প্রিয়। দেবী দুর্গার সন্তুষ্টি অর্জনে দুর্গাপূজায় পদ্মফুলের চাহিদা বাড়ে। তিনি আরো জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে যখন পদ্মফুলের এলাকা কমছে, তখন কলমীগাড়া বিলটি পদ্মফুলে ভরে গেছে শুনে সেখানে বেড়াতে এসেছি।

পদ্মফুল বিক্রি করা আবেদ আলী জানান, সকালে বাড়ির পাশের এ বিল থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা পদ্মফুল, পদ্মচাক ও পদ্মপাতা তুলতে হয়। ১০টি পদ্মফুলের এক আঁটি ১৫ টাকায়, ছয়টি পদ্মচাক ১০ টাকায় এবং প্রতিটি পদ্মপাতা ছয় টাকায় বিক্রি করেন তিনি। প্রতিদিন গড়ে ৩০০-৪০০ টাকা আয় হয়। শুধু আবেদ আলী নয় এ সময় অনেকেরই জীবন-জীবিকার মাধ্যম হয়ে উঠে পদ্মফুল, চাক ও পদ্মপাতা।

চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিত্সক ডা. রুহুল কুদ্দুস ডলার জানান, পদ্মফুল কেবল সৌন্দর্যের আধারই নয়, এ উদ্ভিদটি ভেষজ গুণ সমৃদ্ধও। পদ্মর ডাঁটা সবজি হিসেবে খাওয়া যায়। মানুষের শরীরের ক্যালসিয়াম ঘাটতি পূরণে এবং চুলকানি ও রক্ত আমাশয় নিরাময়ে এ জলজ উদ্ভিদ ও ফুল বেশ উপকারী।