সম্পর্কোন্নয়নে দুই কোরিয়ার মধ্যে হটলাইন ফের চালু

 

বিবিসি

দীর্ঘ এক মাস ধরে চলা উত্তেজনা প্রশমনে দুই কোরিয়ার মধ্যে হটলাইন ফের চালু হয়েছে। নিজেদের মধ্যে সম্পর্কের উন্নয়নই এর মূল লক্ষ্য। এর পরই দুই দেশের শীর্ষ নেতারা একে অপরের সঙ্গে ফোনালাপ করেন। স্থানীয় সময় সোমবার দক্ষিণ কোরিয়ার একত্রীকরণ মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনের সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ পুনঃস্থাপনের কথা বলার কয়েকদিন পরই এ ঘটনা ঘটল। যদিও সে সময়ে তিনি ‘শর্ত’ যুক্ত শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন। যা হোক যোগাযোগ পুনঃস্থাপনের পর পিয়ংইয়ং তার প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়া কর্তৃপক্ষের আচরণের ওপরই গোটা বিষয়টি নির্ভর করে। যদি তারা আশানুরূপ আচরণ করে তাহলেই সম্পর্ক একটা ভালো মাত্রায় যাবে। দক্ষিণ কোরিয়ার মন্ত্রণালয় জানায়, আগস্টের পর প্রথম কথা বললেন দেশ দুটির নেতারা। তবে সম্পর্ক কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে যাবে যদি উভয়ের মাঝে পরিপূর্ণ আন্তরিকতা থাকে। মূলত দুই কোরিয়ার মাঝে বৈরী সম্পর্ক বহু পুরোনো। এ নিয়ে উভয়ের মাঝে বাগ্যুদ্ধ প্রায় সময়েই হয়ে থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে এই সম্পর্ক আরো তিক্ততা লাভ করে।

উত্তর কোরিয়া সম্প্রতি বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করে দক্ষিণ কোরিয়া। গত মাসেও চারটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালায় দেশটি। এতে বোঝা যাচ্ছে যে, পারমাণবিক অস্ত্রের উন্নয়ন থেকে পিছপা হচ্ছে না দেশটি। পরমাণু ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির কারণে ২০০৬ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় রয়েছে উত্তর কোরিয়া। এসব কর্মসূচিতে অর্থায়ন বন্ধ করতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদও ধারাবাহিকভাবে বিধিনিষেধ বাড়িয়েছে। কিন্তু সব নিষেধাজ্ঞাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাচ্ছে উত্তর কোরিয়া। ক্রমাগত ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানোর কারণে প্রতিবেশী দেশগুলোর হুমকির বিষয়টি নিয়ে এর আগেও উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার যোগাযোগ বহুবার বিচ্ছিন্ন হয়েছে আবার জোড়াও লেগেছে।