>> তাসনিমুল হাসান উদয়
অনাগত প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যাওয়ার স্বপ্ন আমাদের সকলেরই। আর সেই স্বপ্নকেই যেন ধারণ করে বাংলাদেশে নির্মিত অ্যানিমেটেড স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘টুমরো’। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ভয়াবহতা তুলে ধরা এবং সবার মাঝে সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে চলচ্চিত্রটি। এরই ধারাবাহিকতায় সমপ্রতি ‘কান ওয়ার্ল্ড ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’র আগস্ট মাসের সংস্করণে সেরা অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্রের খেতাব অর্জন করেছে এটি। মোহাম্মদ শিহাব উদ্দীনের পরিচালনায় ‘টুমরো’ মুক্তি পায় ২০১৯ সালে। এর প্রযোজক ‘কাজী ফার্ম গ্রুপ’র কাজী জিসান হাসান এবং কাজী জাহিন হাসান। স্ক্রিন-প্লে তে কাজ করেছেন আহমেদ খান হিরক এবং নাসিমুল হাসান। ‘টুমরো’র এই স্বীকৃতি বাংলাদেশের অ্যানিমেশন ইন্ডাস্ট্রিকে বিশ্ব দরবারে নতুন করে তুলে ধরেছে।
দৈনিক ইত্তেফাককে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে পরিচালক বলেন, ‘শিল্পের শহরে যখন বাংলাদেশে নির্মিত কোনো কাজ প্রশংসিত হয়, তখন তা আমাদের জন্য অনেক আনন্দের।’ সমপ্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটে অ্যানিমেশন ল্যাব স্থাপনের সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানান তিনি। তার মতে, নতুনদের জন্য ল্যাব ব্যবহারের সুবিধাগুলো নিশ্চিত করতে পারলে বাংলাদেশে বসেই বিশ্বময় নিজেদের কাজ ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। তরুণদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘নিজের ওপর বিশ্বাস রেখে চলার পথকে নিজেরই তৈরি করে নিতে হবে। বাংলাদেশে চাইলে এখন সবকিছু করা সম্ভব। ‘টুমরো’ যার একটি বড় উদাহরণ।’ ‘সাইকোর স্টুডিও’র একদল দক্ষ অ্যানিমেটরের নিরলস পরিশ্রমে বাংলাদেশে বসে বিশ্বমানের এই অ্যানিমেটেড ফিল্ম বানানো সম্ভব হয়েছে।’ এছাড়াও ‘সাইকোর স্টুডিও’র কর্ণধার মুরাদ আবরারকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান পরিচালক।
‘টুমরো’-তে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ভয়াবহ প্রভাব এবং আমাদের করণীয় পদক্ষেপগুলো অত্যন্ত সাবলীলভাবে তুলে ধরা হয়েছে। জীবাশ্ম জ্বালানির বিকল্প হিসেবে সৌরশক্তি এবং উইন্ডমিলের মতো প্রযুক্তির ব্যবহারকে সামনে নিয়ে আসা হয়েছে। শুধু তাই নয়, আসন্ন বিপর্যয় মোকাবিলায় বাংলাদেশকে বিশ্বের সামনে অনুকরণীয় আদর্শ হিসেবে তুলে ধরার তাগিদ দেওয়া হয়েছে এতে।
২৫ মিনিটের এই চলচ্চিত্রে নিঁখুত অ্যানিমেশন ও অসাধারণ শব্দগ্রহণের পাশাপাশি মানবিক আবেদনের জায়গাগুলো খুব যত্ন নিয়ে তৈরি করা হয়েছে। মূলত ছোট্ট রাতুল চরিত্র প্রতিনিধিত্ব করে আগামী প্রজন্মকে, যারা ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে। এর মাধ্যমে অসংখ্য শিশু, কিশোর এবং তরুণের মাঝে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কাজ করার স্বপ্ন সঞ্চারিত হয়েছে। এ বিষয়ে পরিচালক শিহাব উদ্দীন বলেন, ‘শিশুদের মাঝে ‘টুমরো’ নিয়ে যে উদ্দীপনা দেখতে পাই সেটা আমাদের আনন্দিত করে। আজকের শিশুরা যখন ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তন রোধে দেশ তথা বিশ্বকে নেতৃত্ব দিবে তখনই আমাদের এই নির্মাণ স্বার্থক হবে। আমরা বিশ্বাস করি, ‘টুমরো’ কখনো প্রাসঙ্গিকতা হারাবে না। এটি আগামীতেও নতুন প্রজন্মের কাছে প্রেরণার উত্স হয়ে থাকবে।’