>> সাদিয়া তাসমিয়া
জাপানে ১৯৬৯ সাল থেকে চলে আসা ‘নিকন ফটো কনটেস্ট’-এ প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ‘নেক্সট জেনারেশন’ ক্যাটাগরিতে নিকন ট্রফি জিতেছেন শাহরিয়ার আমিন ফাহিম। তার ‘কারওয়ান বাজার’ শীর্ষক আলোকচিত্রটি এনে দিয়েছে এই অর্জন, যাতে ফুটে উঠেছে কোভিড-১৯ মহামারিতে চলতে থাকা জীবনযুদ্ধের প্রতিচ্ছবি। এই ক্যাটাগরির মূল বিষয়বস্তু ছিল ্তুপ্যাশন।
মাধ্যমিক পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের পর বাবার থেকে উপহার পাওয়া প্রথম স্মার্টফোন দিয়ে ছবি তোলা শুরু ফাহিমের। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে সদ্য স্নাতক সমপন্ন করেছেন। শখের বশে ছবি তোলা কখন যে জীবনের বড় একটা অংশ হয়ে গেছে, টেরও পাননি। সাহস করেই একদিন নিজের ছবি প্রথমবারের মতো জমা দিলেন ‘নিকন ফটো কনটেস্ট’-এ, আর তাতেই বাজিমাত! প্রতিযোগিতাটিতে বিশ্বের মোট ১৫০টি দেশের ২৬,০০০ আলোকচিত্রীর পাঠানো ৬৫,০০০-এরও বেশি ছবি থেকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হয়েছে ৫৪টি ছবি। এর থেকে পরবর্তী ধাপে পৌঁছেছে মাত্র ১২টি ছবি। সবশেষে ‘ক্যাটাগরি উইনার’ হিসেবে চূড়ান্তভাবে মনোনীত হয়েছে মাত্র ২টি ছবি; যেখানে স্থান করে নেয় ফাহিমের ‘কারওয়ান বাজার’ ছবিটি। আগামী নভেম্বর মাসে ফাহিমের ছবিসহ অন্যান্য ক্যাটাগরি উইনার ছবিগুলো নিয়ে নিকন, নিউ ইয়র্ক, নিকন, লন্ডন এবং নিকন, টোকিও-তে আড়ম্বরপূর্ণভাবে প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।
দৈনিক ইত্তেফাককে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে ফাহিম বলেন, ‘শুরুর দিকে আশেপাশের সবকিছু ক্যামেরাবন্দী করলেও, ধীরে ধীরে কোন ধরনের ছবি তুলতে আপনি বেশি আগ্রহী সেদিকেই একান্তভাবে মনোযোগ দিতে হবে। অভিজ্ঞতার ব্যাপারটা হচ্ছে, শুরুতেই একটা দামি ডিভাইস কিনে ছবি তোলা শুরু করা যাবে না। ডিভাইসের ক্ষেত্রে, একদম গোড়া থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে উন্নতমানের ডিভাইসে যেতে হবে।’ এই অর্জনে তার অনুভূতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিজয়ী ঘোষিত হওয়ার পর মনে হচ্ছিল, এত বছরের এত ধৈর্য আর সাধনা, সব আজ স্বার্থক।’ আলোকচিত্রী হতে আগ্রহী তরুণদের জন্য তিনি তিনটি বিষয় মনে রাখা জরুরি বলে মনে করেন। প্রথমত, অদম্য ইচ্ছাশক্তি নিয়ে নিজেকে দক্ষ করে তুলতে হবে। দ্বিতীয়ত, মনোবল হারানো যাবে না। সবশেষে, কখনো নিজের মাঝে দম্ভ আনা যাবে না।’
২০১৮ সালে, ফাহিমের তোলা দুটি ছবি উইকিপিডিয়া আয়োজিত ‘উইকি লাভস মনুমেন্ট’ নামক প্রতিযোগিতায় যথাক্রমে পঞ্চম ও পনেরো তম হয়েছে। তার তোলা ছবি ন্যাশনাল জিওগ্রাফির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং যুক্তরাজ্যের দ্য টেলিগ্রাফ ও দ্য ডেইলি মেইলসহ নানা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।