হ্যাকিং হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে কোনো বৈধ অনুমতি ছাড়া কম্পিউটার নেটওয়ার্কে প্রবেশ করে তথ্য চুরি করা হয়। রুটকিট, ট্রোজান, কিলগার ইত্যাদিসহ বিভিন্ন ধরনের প্রোগ্রাম ব্যবহার করে কাজটি যে সম্পাদন করে তাকে হ্যাকার বলা হয়। এরা ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত বা আর্থিক ডিটেইলগুলি শনাক্ত করতে ব্রাউজার হাইজ্যাক, স্পুফিং, ফিশিং ইত্যাদি কৌশল ব্যবহার করে থাকে। হ্যাকার একটি দেশের অর্থনীতি ও নিরাপত্তাসহ আনুষঙ্গিক বিষয়কে ঝুঁকিতে ফেলে দেয়। বাংলাদেশের ছোট-বড় ব্যাংক, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উপবৃত্তি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অনলাইন অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গড়ে এ হার বেড়েছে ১৩ শতাংশেরও বেশি। সম্প্রতি সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। গত ২ অক্টোবর পত্রিকান্তরে প্রকাশিত এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, রাজধানীর পল্টনে প্রমা ওভারসিজ নামে একটি ট্রাভেল এজেন্সিতে বাংলাদেশ পুলিশের নামে একটি ভুয়া ইমেইল আসে। সেখানে জানানো হয় প্রতিষ্ঠানটির মালিকের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা হয়েছে এবং ঐ মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি হয়েছে, একটি লিংক পাঠিয়ে সেটি ডাউনলোড করে মামলার কপি বের করতে বলা হয়। এর আগেও বাংলাদেশে এরকম অসংখ্য ঘটনা ঘটেছে; ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার হ্যাকিং করা হয়। ফেনীতে প্রতারণার শিকার হয়ে উপবৃত্তির টাকা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন ৫৬ জন অভিভাবক। ফরিদপুর শহরের নিলটুলী এলাকায় রূপালী ব্যাংকের কর্পোরেট শাখা থেকে দেড় কোটি টাকা খোয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সময় এসেছে হ্যাকিং বিষয়ে সচেতন হয়ে অতিশীঘ্রই এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া।
নুমান রাশেদ
শিক্ষার্থী, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়