আবহাওয়া ও জলবায়ুর অনিয়ম-বিশৃঙ্খলা নিয়ে গবেষণা

পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন তিন দেশের তিন বিজ্ঞানী

অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা ও যাবতীয় খামখেয়ালিপনা আর এলোমেলো আচরণের মধ্যে নিয়ম খুঁজে বের করা এবং অনেক আগেভাগে তার প্রায় নিখুঁত পূর্বাভাসের পথ দেখানোর জন্য এবার পদার্থবিজ্ঞানে তিন দেশের তিন জনকে দেওয়া হলো নোবেল পুরস্কার। খবর সিএনএন ও আনন্দবাজার পত্রিকার

আমেরিকার প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্যুকোরো মানাবে, জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাংক ইনস্টিটিউট ফর মেটিরিওলজির অধ্যাপক ক্লস হাসেলম্যান এবং ইতালির রোমের সাপিয়েঞ্জা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জিওর্জিও পারিসি। পদার্থবিজ্ঞানে এই তিন পুরস্কারজয়ীর নাম গতকাল মঙ্গলবার ঘোষণা করেছে নোবেল কমিটি। আমাদের সামনে অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা, যাবতীয় খামখেয়ালিপনা আর এলোমেলো আচরণের সেরা দৃষ্টান্ত পৃথিবীর আবহাওয়া। এখন জলবায়ুও। পৃথিবীর মতোই যাবতীয় জটিল ব্যবস্থার অন্দরে অন্দরে রয়েছে এসব অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা, খামখেয়ালিপনা আর এলোমেলো আচরণ। তাদের মধ্যে নিয়ম খুঁজে বের  করে অনেক আগেভাগে তাদের বুঝে ফেলার পথ প্রথম দেখিয়েছিলেন মানাবে, হাসেলম্যান ও পারিসি। এদের মধ্যে মানাবে ও হাসেলম্যান এ-ও দেখিয়েছিলেন, কীভাবে মানুষ আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে প্রকৃতি, পরিবেশের খামখেয়ালিপনা আর এলোমেলো আচরণকে। যার জন্য শীতকালেও জবজবে ঘামে ভিজতে হচ্ছে আমাদের। নিম্নচাপের দৌরাত্ম্য, ঘূর্ণিঝড়, টাইফুন-টর্নেডোর তাণ্ডব বাড়ছে সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকাগুলোতে। অধ্যাপক মানাবের গবেষণাটি ছিল গত শতাব্দীর ছয়ের দশকে। হাসেলম্যান তার গবেষণাটি করেছিলেন সাতের দশকে। আর পারিসির গবেষণাটি ছিল আটের দশকের। নোবেল কমিটির তরফে বলা হয়েছে, তিন জনের গবেষণাই বিজ্ঞানের ইতিহাসে যুগান্তকারী ঘটনা।

নোবেল কমিটি জানিয়েছে, পৃথিবীর জলবায়ুর প্রাকৃতিক প্রতিরূপ, পরিবর্তনশীলতাকে সংখ্যা ব্যক্ত করা এবং নির্ভরযোগ্যভাবে বিশ্ব উষ্ণায়নের পূর্বাভাস দেওয়ার’ জন্য জাপানের মানাবে (৯০) এবং জার্মানির হাসেলমানকে (৮৯) স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে। ‘পৃথিবীর জলবায়ু এবং মানবিক সভ্যতা কীভাবে সেই বিষয়কে প্রভাবিত করে, তা নিয়ে আমাদের জ্ঞান ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে দিয়েছেন’ মানাবে ও হাসেলমান। তারা নোবেলের একটি অংশ পাচ্ছেন। বাকিটা অংশটা যাচ্ছে ইতালির পারিসির (৭৩) কাছে। ‘দ্য রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস’-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১ কোটি ক্রোনার (সুইডিশ মুদ্রা) মূল্যের নোবেল পুরস্কারের অর্ধেক ভাগাভাগি করে নিয়েছেন স্যুকোরো মানাবে ও ক্লস হাসেলম্যান। বাকি অর্ধেক পেয়েছেন জিওর্জিও পারিসি। কমিটি জানায়, পারমাণবিক থেকে গ্রহের প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া-সংক্রান্ত আবিষ্কারের জন্য পারিসিকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। পারিসি একটি জটিল প্রাকৃতিক ও গাণিতিক মডেল তৈরি করেছেন, যা গণিত, জীববিজ্ঞান, স্নায়ুবিজ্ঞান, মেশিন লার্নিংয়ের মতো সম্পূর্ণ আলাদা ক্ষেত্রের জটিল বিষয়কে বুঝতে সাহায্য করবে।