অভিনয়ে ক্লান্তিহীন

আনন্দ বিনোদন প্রতিবেদক

 

এ সময়ের আলোচিত অভিনেত্রী নাজিফা তুষি। তার বছর শুরু হয় ক্লোজআপ কাছে আসার গল্প সিরিজের রায়হান রাফি পরিচালিত ‘অথবা প্রেমের গল্প’ দিয়ে। ছোটপর্দায় তুষিকে দারুণভাবে পছন্দ করে দর্শক। একই নির্মাতার ওয়েব ফিল্ম ‘দ্য ডার্ক সাইড অব ঢাকা’য় আবারও সাড়া ফেললেন তিনি। মিজানুর রহমান আরিয়ানের ওয়েব ফিল্ম ‘নেটওয়ার্কের বাইরে’ দেখে তুষির গ্ল্যামারে মাতলো দর্শক। তারপর ছন্দপতন। সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়লেন তুষি। বিশ্রামে যেতে হলো সঙ্গত কারণেই। ধীরে ধীরে সেরে উঠছেন তিনি।

দুর্ঘটনার পর মানুষের ভালোবাসা পেয়ে আপ্লুত তুষি বলেন, ‘ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছিল। আমি মারাও যেতে পারতাম। হাসপাতালে সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা দেখতে এসেছিলেন। প্রতিনিয়ত খোঁজ নিয়েছেন অনেকেই। এখনও আমার শারীরিক অবস্থা জানতে চাচ্ছেন শুভাকাঙ্ক্ষীরা। এত মানুষের ভালোবাসা পেয়ে খুব ভালো লাগছে।’ 

দুর্ঘটনার কবলে না পড়লে কাজের সংখ্যা আরও বাড়ত তুষির। হতাশ কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘এ বছর পরপর তিনটি কাজ নিয়ে দর্শকের ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। দুর্ঘটনা না হলে এর মধ্যে কয়েকটি কাজ করা হতো। তবে এখন বেশকিছু কাজের বিষয়ে কথাবার্তা হচ্ছে।’

নাজিফা তুষি কাজে ফিরছেন ধীর লয়ে। আপাতত করছেন ফটোশুটের কাজ। তার ভাষ্য, ‘আমি বিশ্রামে আছি। তবে মাঝে মধ্যে বের হচ্ছি। আর টুকটাক কাজ করছি। এ মাসের মাঝামাঝি থেকে পুরোদমে কাজে ফেরার ইচ্ছে।’

রেদওয়ান রনির ‘আইসক্রিম’ ছবির মাধ্যমে ২০১৬ সালে বড়পর্দায় পা রাখেন নাজিফা তুষি। মানসম্পন্ন কাজের প্রতি মনোযোগী তুষির দ্বিতীয় ছবি মেজবাউর রহমান সুমনের ‘হাওয়া’। ছবিটির পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ শেষের দিকে। মুক্তি পেতে পারে আসছে বছরের শুরুতে। এ ছাড়া আরিফুর রহমানের ‘স্কুটি’ শিরোনামের একটি ছবিতেও কাজ করেছেন এ লাক্স তারকা। ছবিটি আন্তর্জাতিক উত্সবকে উদ্দেশ্য করে নির্মাণ করা হয়েছে। দুর্ঘটনার আগে সৈয়দ জামিল আহমেদের ‘স্পর্ধা-ইনডিপেনডেন্ট থিয়েটার কালেকটিভ’-এ অভিনয়ের কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেছেন তুষি। এ কর্মশালায় অংশ নিয়ে ব্যাপক উচ্ছ্বসিত এ অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি সৈয়দ জামিল আহমেদ স্যারের ‘রিজওয়ান’, ‘জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা’ এবং ‘মন্ত্রাস’ দেখেছি। তখন থেকেই তার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ খুঁজছিলাম। তাকে আমার অভিনয়ের সেরা শিক্ষক মনে হয়। তিনি একজন দার্শনিকও। এ বছরের সবচেয়ে ভালো সময় কেটেছে তার সাত দিনের কর্মশালায়। পারফরমারদের এমন গ্রুমিং সেশনে থাকা প্রয়োজন।’ তুষি আরও যোগ করেন, ‘অভিনয় একটি বোধ। এ সময় ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় জাগাতে হয়। অভিনয়ের সঙ্গে শরীরের অবিচ্ছেদ্য সংযোগ। কর্মশালায় অভিনয়ে শরীরের ব্যবহার শিখেছি। আমি আগামীতেও জামিল স্যারের সঙ্গে কাজ করতে চাই।’ অভিনয়ের প্রতি অদম্য আগ্রহ তুষির। ক্লান্তি নেই চর্চায়। প্রাচ্যনাট স্কুল অব অ্যাক্টিং অ্যান্ড ডিজাইনের ছাত্রী ছিলেন তিনি। তার ভাষ্যে, ‘আমার আশেপাশে যতটুকু সম্ভব হয় শেখার চেষ্টা করি। থিয়েটার করার আগে সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করেছি। ভবিষ্যতে অভিনয় নিয়ে বাইরে পড়াশোনার ইচ্ছে আছে।’