আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে আলোচনার কোনো প্রয়োজন নেই। নিরপেক্ষ সরকার নয়, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনে বিএনপিসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি। গতকাল বুধবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ীতে পাইকপাড়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, নির্বাচন-সংক্রান্ত সবকিছুই নির্বাচনকালে নির্বাচন কমিশনের অধীনে চলে যায়। নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনই সর্বেসর্বা। সরকার তখন শুধু রুটিন দায়িত্ব পালন করে থাকে আর নির্বাচন কমিশনকে একটি স্বাধীন কর্তৃত্বপূর্ণ অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচনে সহযোগিতা করে থাকে।
‘আওয়ামী লীগ থেকে বাঁচতেই জনগণ বিএনপিকে ভোট দেবে’ মর্মে সম্প্রতি বিএনপি মহাসচিবের এমন বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ থেকে বাঁচতে নয়, বরং বিএনপির দুঃশাসন থেকে বাঁচতেই জনগণ বারবার আওয়ামী লীগকে ভোট দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে দেশের মানুষ স্বস্তিতে আছে উল্লেখ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ এতটা বিভ্রান্ত নয় যে, তারা বিএনপির হঠকারী রাজনীতির ফাঁদে ঝাঁপ দেবে। ওবায়দুল কাদের বলেন, জনগণ অনেক আগেই বিএনপি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। এর প্রমাণ সাম্প্রতিক উপনির্বাচন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনেই পরিষ্কার হয়ে গেছে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জহিরুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, আইনবিষয়ক সম্পাদক নজিবুল্লা হিরু, সাবেক হুইপ ও স্থানীয় সংসদ সদস্য সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি, মুন্সীগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মহিউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক শেখ লুত্ফর রহমান প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন টঙ্গিবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাফিজ আল আসাদ। বক্তারা বলেন, ক্ষমতায় থাকাকালে বিএনপি দেশের মানুষ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর যে নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিল, তা আরব্য রজনীর গল্পের মতো ১ হাজার ১ রাতেও বর্ণনা করে শেষ করা যাবে না।