চাঁদাবাজির অভিযোগে পরিবহন সংশ্লিষ্ট ৫ জনকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম নগরীতে অঘোষিত পরিবহন ধর্মঘট পালিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৭ অক্টোবর) সকাল থেকে ধর্মঘটের কারণে নগরীর কয়েকটি সড়কে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ ছিল। তবে ধর্মঘটের সমর্থনে কোথাও শ্রমিকরা রাস্তায় বিক্ষোভ করেননি।
ঘোষণা ছাড়া গণপরিবহন বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েন গার্মেন্টসকর্মী, চাকরিজীবী ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। নগরীর বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, ষোলশহর, জিইসি, অক্সিজেন মোড়সহ কয়েকটি মোড়ে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও গাড়ি পাননি যাত্রীরা। অনেকে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে রিকশা ও সিএনজি অটোরিকশায় গন্তব্যে পৌঁছেছেন। বিভিন্ন জায়গায় রিকশা ও অটোরিকশা চালকদের সঙ্গে যাত্রীদের বাগবিতন্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।
উল্লেখ্য, র্যাব-৭ এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বুধবার রাতে নগরীর অংলকার মোড় থেকে চাঁদাবাজির ২১ হাজার ৮২০ টাকাসহ ৫ পেশাদার পরিবহন চাঁদাবাজকে গ্রেফতার করা হয়। এরা হলেন, মো. আজাদ, মো. অহিদ, মো. আরিফ হোসেন, মো. জামাল হোসেন ও মো. সিদ্দিক হোসেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে কাভার্ডভ্যান, মালবাহী ট্রাকসহ অন্যান্য পরিবহনের চালকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায়ের কথা স্বীকার করেছেন।
র্যাব-৭ অধিনায়ক লে. কর্নেল এম ইউসুফ ইত্তেফাককে বলেন, সুর্নিদ্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার রাতে অলংকার এলাকা থেকে ৫ পরিবহন চাঁদাবাজকে চাঁদাবাজির অর্থসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে একটি স্বার্থান্বেষী মহল কিছু পরিবহন বন্ধ রেখে নগরীতে জনদুর্ভোগ বাড়িয়েছে। আমরা জানিয়ে দিতে চাই পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
চট্টগ্রাম জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব মনজুরুল আলম মঞ্জু ইত্তেফাককে বলেন, পরিবহন সেক্টরে চাঁদা নেয়ার বিষয়টি বৈধ। তবে চাঁদা নিতে হয় টার্মিনাল থেকে। রাস্তাঘাটে চাঁদাবাজি অন্যায় ও অবৈধ। চট্টগ্রামে চাঁদাবাজির টাকাসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সঠিক কাজই করেছে। গ্রেফতার ব্যক্তিরা অপরাধী। এই ঘটনার প্রতিবাদে ধর্মঘট করাটাও ঠিক হয়নি। আমরা কাউকে ধর্মঘট করতে বলিনি, কাউকে নিষেধও করিনি। যাদের ইচ্ছা হয়েছে গাড়ি চালিয়েছে। কেউ কেউ গাড়ি বন্ধ রেখেছে।
ইত্তেফাক/এসজেড