অনুভূতির ট্রমা

এ কটা জরুরি মেসেজ পাঠাতে হবে। মেসেজটি যাবে ফ্রান্সের কোনো একটা শহরে। রেবা ভাবছে...।

ফোনের কির্বোডে টাইপ হচ্ছে...‘আপনি একটা সুন্দর অমানুষ। আপনার মতো এত সুন্দর অমানুষ আমি কোনোদিন দেখিনি। জানোয়ারের মনেরও কিছুটা অংশ নরম হয়, আপনার পুরোটাই কাঠ বিস্কিট। ছিঃ! দুনিয়া থেকে তাড়াতাড়ি বিদায় হোন।’

মেসেজ লেখার পর সেন্ড না করে একে একে সবগুলো অক্ষর কেটে দিল রেবা। আবার ভাবছে সে...টাইপ হচ্ছে...‘এই গরুর বাচ্চা, তুই নিজে গরু দেখে কি একটা মেয়েকে গাভী ভাবিস? এত নাটক কীভাবে করেছিস রে শুয়োর? কোথায় কোর্স করেছিস, বল?’

এবারো এক-এক করে প্রতিটা শব্দ ডিলিট করে রেবা। কিছুক্ষণ ভেবে আবার লিখতে থাকে—‘আপনার নাম্বারটি দয়া করে পরিবর্তন করবেন না। করলেও আমাকে একটা কল বা টেক্সট করে জানিয়ে দেবেন। এটা আমার আপনার প্রতি অনুরোধ। আমি আজ থেকে ১০/১৫ বছর পর আপনাকে জিজ্ঞাসা করব—আপনি কেমন আছেন? আমার খুব জানতে ইচ্ছে করবে নিষ্ঠুররা শুধু ভালো থাকে, নাকি খুব বেশি ভালো থাকে?’

এবারো কথাগুলো কেটে দিল। রেবার চোখে জল। কিছুটা সময় নিল। আবার টাইপ করল...‘শুভ রাত্রি মিস্টার নীল।’ এবার সেন্ড করা হলো মেসেজটা।

রেবার ঘুম পাচ্ছে, প্রচণ্ড ঘুম পাচ্ছে।

 

[চট্টগ্রাম]