ফ্রান্সের কাছ থেকে সাবমেরিন কেনার চুক্তি বাতিল করে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে নতুন একটি নিরাপত্তা জোট গঠন করায় ক্ষুব্ধ প্যারিস অস্ট্রেলিয়া থেকে ডেকে পাঠানো রাষ্ট্রদূতকে ক্যানবেরায় ফেরত পাঠাচ্ছে। গত বুধবার ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-যুব লে দ্রিয়ান এ কথা জানিয়েছেন। রাষ্ট্রদূত অস্ট্রেলিয়ায় ফেরত গিয়ে দেশটির সঙ্গে সম্পর্ককে ‘নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত’ করার পাশাপাশি বাতিল হয়ে যাওয়া সাবমেরিন চুক্তির বিষয়ে ‘ফ্রান্সের স্বার্থ সুরক্ষায়ও’ কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
ফ্রান্সের কাছ থেকে সাবমেরিন পেতে অস্ট্রেলিয়া এখন পর্যন্ত ৯০ কোটি ডলারের বেশি খরচ করেছে, চুক্তি বাতিল করায় তাদের এখন ন্যূনতম আরো ২৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার দিতে হবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। ‘অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে শুরু হলেও প্রশান্ত মহাসাগরে সক্রিয় থাকার ব্যাপারে আমাদের সংকল্পে এটি প্রভাব ফেলবে না।’ বলেছেন ফ্রান্সের পররাষ্ট্রন্ত্রী।
গত মাসে অস্ট্রেলিয়া এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনকে মোকাবিলা এবং পশ্চিমাদের প্রভাব ধরে রাখার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে মিলে নতুন একটি নিরাপত্তা জোট করেছে। অকাস নামে পরিচিত এই জোটে থাকায় অস্ট্রেলিয়া এখন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পারমাণবিক শক্তিধর সাবমেরিন বানানোর প্রযুক্তি পাবে। এ কারণেই ক্যানবেরা ফ্রান্সের সঙ্গে পাঁচ বছর আগে করা সাড়ে ৬ হাজার কোটি ডলারের একটি চুক্তি বাতিল করে দেয়। এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে প্যারিস অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে তাদের রাষ্ট্রদূতদের দেশে ডেকে পাঠায়। যুক্তরাষ্ট্র এরপর ফ্রান্সের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের ক্ষোভ খানিকটা প্রশমিত করলে ওয়াশিংটন ডিসিতে রাষ্ট্রদূতকে ফেরত পাঠায় প্যারিস। তবে অস্ট্রেলিয়ায় রাষ্ট্রদূত ফেরত পাঠানো হবে কি হবে না, সে প্রসঙ্গে বুধবারের আগ পর্যন্ত তারা একটি কথাও বলেনি। অকাস নিয়ে বিরোধে কয়েক দিন আগে অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে একটি বাণিজ্য আলোচনাও পিছিয়ে গেছে।
ফ্রান্সের কর্মকর্তারা বলছেন, অস্ট্রেলিয়া যে নতুন একটি নিরাপত্তা জোট করছে, সে বিষয়ে তারা ‘পুরোপুরি অন্ধকারে’ ছিলেন। ক্যানবেরা তাদের কাছ থেকে সাবমেরিন কেনা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সময় তলে তলে বিকল্প আরেকটি চুক্তি নিয়ে কাজ করেছে। ২০১৬ সালে ফ্রান্স ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে ঐ সাবমেরিন চুক্তি হয়েছিল; ঐ চুক্তিকে প্রশান্ত মহাসাগরে ফ্রান্সের সক্রিয় হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেও দেখা হচ্ছিল।