চলতি মাসে শেষ হচ্ছে প্রকল্পের মেয়াদ, অথচ পাঁচ বছরে এর মূল কাজই শুরু হয়নি। ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) নিজস্ব ভবন নির্মাণ প্রকল্পের চিত্র এটি। গত পাঁচ বছরে ১ শতাংশ অগ্রগতি হয়নি প্রকল্পটিতে। ২৩৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকার প্রকল্পটির মেয়াদ চলতি অক্টোবর মাসে শেষ হচ্ছে। ২০১৬ সালের নভেম্বরে শুরু হয়ে প্রকল্পের আওতায় চারটি বেইজমেন্টসহ ৪০ তলা ভবন নির্মাণ করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু প্রকল্পের পূর্ত কাজ এখনো আরম্ভ করা হয়নি। শুধু সাইট অফিস নির্মাণ করা হয়েছে। রাজধানীর রাজারবাগের আউটার সার্কুলার রোডে প্রস্তাবিত এই ভবনটি নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। এখন প্রশ্ন উঠেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পটি আদৌ বাস্তবায়নের যৌক্তিকতা রয়েছে কি না।
এ বিষয় জানতে চাইলে আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবুল হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, প্রকল্প প্রস্তাবনায় ৪০ তলা ভবন নির্মাণ করার লক্ষ্য থাকলেও রাজউক থেকে ৩২ তলা ভবনের অনুমোদন পাওয়া গেছে। এখন নকশা পরিবর্তন করতে হবে। অনুমোদনজনিত জটিলতা ছাড়াও করোনার প্রকোপ শুরু হওয়ায় এর কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। এখন প্রকল্প সংশোধনের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হবে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, প্রস্তাবিত ভবনে করপোরেশনের জন্য ডিজিটাল অফিস স্পেস ছাড়াও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা যেমন ট্রেনিং ফ্যাসিলিটিজ, অডিটরিয়াম, একাধিক মিটিং রুম, ডাটা সেন্টার, লাইব্রেরি, আর্কাইভসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা রাখার লক্ষ্য রয়েছে। রাজধানীর রাজারবাগের আউটার সার্কুলার রোডে প্রস্তাবিত এই ভবনটির স্থানে ৪তলা দুটি পুরোনো ভবন ছিল, যা ভেঙে অপসারণ করা হয়েছে। এখন সংশোধিত ডিজাইন ও সর্বশেষ রেড সিডিউলের আলোকে প্রকল্প ব্যয় পুনর্নির্ধারণ করে সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) এক পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পের মেয়াদ চলতি অক্টোবর মাসেই শেষ হচ্ছে। অথচ প্রকল্পের ক্রমপুঞ্জিত আর্থিক অগ্রগতি ২ দশমিক ০৯ শতাংশ। প্রকল্প পরিদর্শনে ভৌত অগ্রগতি ১ শতাংশেরও কম দেখাগেছে। যেটুকু ব্যয় হয়েছে সেখানেও ক্রয় প্রক্রিয়ার বিধিমালার লঙ্ঘন করা হয়েছে। কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে পুঁজিবাজারে মন্দাবস্থার কারণে আইসিবির আর্থিক সক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। এরকম একটি উচ্চাভিলাষী প্রকল্প বাস্তবায়ন করার কতটুকু আর্থিক সক্ষমতা রয়েছে তা নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ও আইসিবির সঙ্গে আলোচনাক্রমে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের সুপারিশ করেছে আইএমইডি।
আর্থিক সক্ষমতার বিষয়ে জানতে চাইলে মো. আবুল হোসেন বলেন, দেশের পুঁজিবাজারের অবস্থা আগের তুলনায় অনেক ভালো। তাছাড়া আইসিবির কর্মকাণ্ডও বেড়েছে। এ ধরনের প্রকল্পে অর্থায়নের সক্ষমতাও রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট এবং আইএমইডি সূত্র জানা যায়, রাজউজ কর্তৃক প্রকেল্পর ৪০ তলা ভবনের পরিবর্তে ৩২ তলা ভবনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রাজউক কর্তৃক প্রকল্পের প্লান পাশ করতে দেরি হওয়া, ডিজাইনে পরিবর্তন ছাড়াও নানা জটিলায় প্রকল্পের মূল কাজ শুরুই হয়নি। ভূমি ব্যবহার সংশোধনজনিত কারণে তিনবার রাজউকের ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র নিতে হয়েছে। সেইসঙ্গে তিনবার সিভিল এভিয়েশনসহ একাধিকবার ১৩টি বিভিন্ন সংস্থার ছাড়পত্র সংগ্রহ করা হয়। কোভিড-১৯ এর লকডাউনজনিত কারণে প্রকল্পের বাস্তবায়নের গতি হ্রাস পেয়েছে।