সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার (এস কে সিনহা) বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি প্লট বরাদ্দ নেওয়া ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১-এর উপ-পরিচালক গুলশান আনোয়ার খান বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মদ আরিফ সাদেক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দুদক সূত্র জানায়, সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা তার নিজ নামে রাজউকের উত্তরা আবাসিক এলাকায় একটি প্লট বরাদ্দ নিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি অসত্ উদ্দেশ্যে ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে তার ভাই নরেন্দ্র কুমার সিনহার নামে রাজউকের পূর্বাচল প্রকল্পে প্লটের জন্য আবেদন করিয়ে তিন কাঠার একটি প্লট বরাদ্দ নিয়েছেন। শুধু তাই নয়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিন কাঠার প্লটটিকে তিনি পাঁচ কাঠায় উন্নীত করিয়েছিলেন। সেটি আবার পূর্বাচল থেকে উত্তরার ৪ নম্বর সেক্টরের ৬ নম্বর সড়কের ১/এ প্লটে স্থানান্তর করে রাজউক থেকে অনুমোদন করিয়ে নেন। তিনি নিজেই এই প্লটের জন্য ৭৫ লাখ টাকা পরিশোধ করেন।
দুদক সূত্র জানায়, দুদকের অনুসন্ধানে একজন প্রকৌশলীকে দিয়ে নিরীক্ষা করিয়ে দেখা যায়, প্লটে ৯ তলা ভবন নির্মাণে প্রায় ৬ কোটি ৩১ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। প্লটের মূল্য হিসেবে রাজউকে জমা দেওয়া ৭৫ লাখ টাকাসহ ব্যয় হয়েছে ৭ কোটি ৬ লাখ টাকা। এই নির্মাণ ব্যয়ের মধ্যে তিনি জনৈক খালেদা চৌধুরীর কাছ থেকে ফ্ল্যাট বিক্রি বাবদ অগ্রিম ৭০ লাখ টাকা নিয়েছেন। এছাড়া জনৈক শঙ্খজিত সিংহের নামে সুরেন্দ্র কুমার সিনহার ৭৮ লাখ টাকা স্থায়ী ও নগদে জমা ছিল। তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে ৭ কোটি ১৪ লাখ টাকা নিজের ভাই ও আত্মীয়দের নামে অবৈধভাবে অর্জন করেছিলেন। এই আয়ের বৈধ কোনো উত্স নেই এবং তার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।
দুদক সূত্র জানায়, সুরেন্দ্র কুমার সিনহা অবৈধ পন্থায় অর্জিত অর্থ বিভিন্ন ব্যক্তির হিসাবের মাধ্যমে স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তর করে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা ও ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন- ২০১২-এর ৪(২) (৩) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
দুদকের আরেকটি সূত্র জানায়, সাবেক প্রধান বিচাপতি এস কে সিনহার বিরুদ্ধে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা ঘুষ নেওয়ার যে অভিযোগ করেছিলেন, তার কোনো প্রমাণ পাননি তদন্ত কর্মকর্তা। এ কারণে উলটো নাজমুল হুদার বিরুদ্ধেই আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।