বিশ্বব্যাপী জ্বালানিসংকট তীব্র হচ্ছে

আলাউদ্দিন চৌধুরী

 

বিশ্বব্যাপী জ্বালানিসংকট তীব্র হচ্ছে। তর তর করে বাড়ছে তেল, গ্যাসের দাম। ইতিমধ্যে ব্যারেলপ্রতি অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দর ৮০ ডলারে উঠেছে। এই দর ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বেড়েছে অবিশ্বাস্য গতিতে। সিএনএনের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে :ইউরোপে গ্যাসের মূল্য এক বছরের ব্যবধানে আট গুণ বেড়েছে। গত মাসে সেপ্টেম্বরের শুরুতে যে দামে বিক্রি হতো তার থেকে এখন ১৩০ শতাংশ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে গ্যাস। শুধু তাই নয়, পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে এক মাসের ব্যবধানে তরল গ্যাসের মূল্য বেড়েছে ৮৫ শতাংশ। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে ইউরোপ এক অভূতপূর্ব সংকটের সম্মুখীন হয়েছে। উত্তর গোলার্ধে শীত আসার সঙ্গে সঙ্গে ইউরোপের জনগণ উষ্ণ থাকতে পারবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের উত্পাদন খরচ বাড়বে এমনটাই আশঙ্কা করা হচ্ছে। করোনার প্রভাব কাটিয়ে যখন অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর আশা করা হচ্ছে, তখন জ্বালানি সংকটের বিষয়টি বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। কয়লার সংকট এখন এশিয়াতেও দেখা যাচ্ছে। সারা বিশ্বেই কোভিড-পরবর্তী অর্থনৈতিক কার্যক্রমে গতি ফিরেছে। ফলে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে হু হু করে। এদিকে কয়লা সংকটের কারণে তেল দিয়ে বিদ্যুত্ উত্পাদনের দিকে যাচ্ছে চীন। তাতে এমন পরিস্থিতি হয়েছে যে উত্তর চীনের কিছু অংশে দিনের বড় একটি সময় বিদ্যুত্ থাকে না। কারখানাগুলো উত্পাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। ভারতের বিদ্যুেকন্দ্রগুলো কয়লার জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে রীতিমতো হুমড়ি খেয়ে পড়েছে।

বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দেবে এমনটি আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। আগামী শীতে পরিস্থিতি আরো খারাপেরও আশঙ্কা করা হচ্ছে। জ্বালানি সংকট মহামারি-পরবর্তী পুনরুদ্ধারকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করবে, এমন আশঙ্কায় ইউরোপীয় ইউনিয়নেরও।

এখন সংকট থেকে উত্তরণের উপায় কী হতে পারে। সিএনএনের এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সহজ না-ও হতে পারে। কারণ করোনার ধাক্কা কাটিয়ে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের গতি বেড়েছে। সারা বিশ্বেই বেড়েছে জ্বালানির চাহিদা। এই সংকটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রাকৃতিক কিছু কারণও। এ বছরের শুরুতে ইউরোপের অস্বাভাবিক লম্বা সময় জুড়ে শীত থাকায় প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ হ্রাস পেয়েছে। তাছাড়া রাশিয়ার গ্যাস রপ্তানি কমিয়েছে। চীন তার জ্বালানি সংকট কাটাতে তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের আমদানি বাড়াচ্ছে।

ব্যাংক অব আমেরিকা সম্প্রতি আশঙ্কা করেছে, আসছে শীতকালে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দর ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এখন প্রশ্ন হলো :বিশ্ববাজারে জ্বালানির এই সংকটের ফলে কতটা মূল্য দিতে হবে। অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা করছেন জ্বালানির দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতিও বাড়বে। কিন্তু এর ফলে করোনার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধার কার্যক্রমেও ব্যাঘাত ঘটবে। এখন করোনার আগের অর্থনৈতিক অবস্থা ফিরে আসতে কতটা বিলম্ব হবে, সেটাই ভাবাচ্ছে নীতিনির্ধারকদের।