মতিউর রহমান, দিনাজপুর
দিনাজপুর পৌরসভার পৌনে ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ড্রেনেজ ব্যবস্থার অধিকাংশই অকার্যকর হয়ে পড়েছে। দেড় শ বছরের প্রাচীন এই পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় পানি নিষ্কাশনে সৃষ্টি হয়েছে প্রতিবন্ধকতা। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই জলমগ্ন হয়ে পড়ছে শহরের বিভিন্ন এলাকা। এতে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে প্রথম শ্রেণির এই পৌরসভার অধিবাসীরা। পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। দিনাজপুর পৌরসভার হিসাব মতে, এই পৌরসভার মোট ড্রেনের দৈর্ঘ্য ১৭৬ কিলোমিটার। এর মধ্যে ইট দিয়ে তৈরি পাকা ড্রেন ৪৪.৪৩ কিলোমিটার, কংক্রিট দিয়ে তৈরি পাকা ড্রেন ১৪.৮০ কিলোমিটার এবং কাঁচা ড্রেন ১১৬.৯০ কিলোমিটার। এছাড়াও বক্স কালভার্ট ৩২১ টি এবং পাইপ কালভার্ট ৩০টি।
সাড়ে ২৪ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই দিনাজপুর পৌরসভায় কাগজে-কলমে এই ১৭৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ড্রেন থাকলেও বেশির ভাগ হয়ে পড়েছে অকার্যকর। কোথাও ড্রেন ভেঙে পড়ে রাস্তার সঙ্গে মিশে গেছে। কোথাও ভরাট হয়ে গেছে। কোথাও বাড়ি নির্মাণ করতে গিয়ে ভেঙে পড়েছে ড্রেন। আর অবশিষ্ট যে পরিমাণ ড্রেন রয়েছে, তা নিয়মিত পরিষ্কার না করায় ময়লা-আবর্জনায় পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে গেছে।
ড্রেনেজ ব্যবস্থার এই দুরবস্থার কারণে শহরে বৃষ্টি হলেই বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। রাস্তায় জমে থাকছে পানি। কোথাও কোথাও হাঁটু পানি জমে মানুষ ও যান চলাচলে সৃষ্টি হচ্ছে প্রতিবন্ধকতা। গত কয়েক বছরসহ এবারের বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টি হলেই শহরের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়। এরই ধারাবাহিতায় সোমবার সকালে প্রায় দুই ঘণ্টার বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়ে বিভিন্ন এলাকার রাস্তা। শহরের নিমনগর বালুবাড়ী, মধ্য বালুবাড়ী, বাহাদুরবাজার, কালিতলা, ছোট গুড়গোলা, সুইহারী, উপশহর, বিসিক শিল্পনগরী এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কের ওপর হাঁটু পানি জমে যায়।
দিনাজপুর শহরের নিমনগর বালুবাড়ী মহল্লার অধিবাসী আবুল কাশেম জানান, দুই ঘণ্টার বৃষ্টিতে তাদের বাড়ির সামনের গোটা রাস্তায় হাঁটু পানি জমে যায়। ফলে ময়লা-আবর্জনাযুক্ত পানিতে বের হতে না পেরে পরিবার-পরিজন নিয়ে বাড়িতেই কয়েক ঘণ্টা জলবন্দি ছিলেন তারা।
শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থার এই দুরবস্থার কথা নিশ্চিত করে দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম জানান, পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে একটি মাস্টার প্ল্যান গ্রহণ করা হয়েছে। এই মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী ড্রেনগুলো সংস্কার ও নতুন নতুন ড্রেন নির্মাণ করা হবে। এতে পৌরবাসীর দুর্ভোগ লাঘব হবে বলে আশা করেন তিনি। অনেকেই বাড়ির ময়লা-আবর্জনা ড্রেনে ফেলে দেওয়ায় ড্রেনের পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। এজন্য ড্রেনে নিক্ষেপ না করে নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য পৌরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।