বান্দরবানে জুম ফসল কাটায় ব্যস্ত পাহাড়িরা

মিলন চক্রবর্তী, বান্দরবান প্রতিনিধি

বান্দরবানে জুম ফসল তোলায় ব্যস্ত পাহাড়ি জুমিয়ারা। জুমের সোনালি ধানে ছেয়ে গেছে সবুজ পাহাড়। জুমের পাকা ফসল ঘরে উঠছে। শুরু হয়েছে ধান কাটা। আনন্দের উচ্ছ্বাস এখন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের ঘরে ঘরে। জুমের ধানসহ বিভিন্ন জাতের ফসল ঘরে তোলার ভরা মৌসুম চলছে এখন।

কৃষি বিভাগ জানায়, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের জীবিকার প্রধান উত্স জুম চাষ। জুম চাষ প্রতিবছর এক জায়গায় করা যায় না। এটি চক্রাকারে করতে হয়। একবার জুম চাষ করার পর কমপক্ষে দুই-চার বছর জমি পতিত রাখতে হয়। পাহাড়ের ঢালে বিশেষ পদ্ধতিতে বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে জুমের মাটিতে একই গর্তে ধানসহ বিভিন্ন রকম বীজ বপন করা হয় বলে এর নাম জুম চাষ। জুমে শুধু ধান নয়, চাষ হয় মিশ্র ফসলও। কৃষি বিভাগের মতে পাহাড়ে অনেক জাতের ধান চাষ হয়ে থাকে। এর মধ্যে লাল ধান, হরিণ বিনি, লাল বিনি, সাদা বিনি, কালো বিনি, গেলঙ ধান, গুরি ধান উল্লেখযোগ্য। উপযুক্ত পরিবেশ, মাটির উর্বরাশক্তি ও অনুকূল আবহাওয়ার ফলে এবছর জুমে ধানসহ মিশ্র ফসলের ভালো ফলন হয়েছে।

কৃষি বিভাগ জানায়, বান্দরবানে ৮ হাজার ৭০৭ হেক্টর জমিতে, রাঙ্গামাটিতে ৫ হাজার ৮৮০ হেক্টর জমিতে এবং খাগড়াছড়িতে ১ হাজার ৯১০ হেক্টর জমিতে এবার জুম চাষ করা হয়। জুমচাষিরা জানান, সনাতন পদ্ধতির এই চাষাবাদে জীবন চলে না। তারপরও জীবিকার প্রয়োজনে নিরুপায় হয়ে পাহাড়ের ঢালে চূড়ায় স্বপ্ন বুনতে হয় তাদের। আগের মতো জুমে এখন আর ফসল তেমন ভালো হয় না।

বান্দরবান সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, স্থানীয় জাতের তুলনায় আধুনিক জাতগুলো প্রায় দুই গুণ বেশি উত্পাদিত হয়। নতুন উচ্চ ফলনশীল জাতগুলোর বীজ যদি জুমচাষিদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া এবং আগামীতে গবেষণা জ্ঞান মাঠ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারলে পাহাড়ের জুমিয়াদের বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে ও আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তনে ইতিবাচক উন্নতি ঘটতে পারে। বান্দরবানের জেলা প্রশাসক ইয়াসমিন পারভিন তিবরিজি বলেন, জুম চাষের ফলে এলাকায় খাদ্যের চাহিদা অনেকটা পূরণ হচ্ছে। সরকারও জুমচাষিদের মিশ্র ফসল চাষে সহযোগিতা করে আসছে।