এবার মাদ্রাসার ছয় ছাত্রের চুল কেটে দিলেন শিক্ষক!

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ জন ছাত্রের মাথার চুল কাঁচি দিয়ে কেটে লাঞ্ছিত করার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার হামছাদী কাজীর দিঘীরপাড় আলিম মাদ্রাসার দমশ শ্রেণির ছয় ছাত্রের চুল কেটে দিলেন সিনিয়র শিক্ষক মঞ্জুরুল কবির। এতে ছাত্র ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে এ ঘটনার একটি ভিডিও গতকাল শুক্রবার সমাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।

মাদ্রাসার দাখিল শ্রেণির শিক্ষার্থী নাজমুল আলম ও ফজলে রাব্বীসহ কয়েক জন জানায়, গত বুধবার তাদের ইংরেজি ক্লাস চলার সময় হঠাত্ করে সিনিয়র শিক্ষক মঞ্জুরুল কবির স্যার ঢুকে কেঁচি দিয়ে আমাদের ছয় জনের মাথার চুল কেটে দেন। এ ঘটনার পর ছাত্ররা ক্লাস থেকে বেরিয়ে যায়। পরে মাদ্রাসার অন্য শিক্ষকদের মধ্যস্থতায় ছাত্ররা ক্লাসে ফিরে আসে।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে এক ছাত্র জানায়, ইংরেজি ক্লাসের প্রথম ঘণ্টা পড়ার পর মঞ্জুরুল স্যার হঠাত্ করে আমাদের (ক) শাখার  ক্লাসরুমে ঢুকে ছয় ছাত্রের চুল কেটে দেয়। কিন্তু (খ) শাখার কোনো ছাত্রের চুল কাটেননি। আমি মাথা বেল করে চার দিন মাদ্রাসায় যাইনি। পরে দাখিল পরীক্ষার ফরম পূরণ করতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেওয়ায় আমি মাদ্রাসায় আসি।

শুক্রবার অভিযোগ ওঠা শিক্ষক মঞ্জুরুল কবির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমি দাখিল শ্রেণির সব ছাত্রকে পরীক্ষার আগের দিন চুল কেটে আসতে বলি। কিন্তু ছাত্ররা কথার অবাধ্য হওয়ায় কয়েক ছাত্রের চুল কেটে দিয়েছি। তবে আমি কাউকে  কোনো হুমকির কথা বলিনি।

বামনী ইউপি চেয়ারম্যান তাফাজ্জল হোসেন মুন্সী বলেন, শিক্ষক মঞ্জুরুল কবির ইউনিয়ন জামায়াত ইসলামীর আমির হওয়ায় প্রায় সময় ছাত্রছাত্রীদের ওপর প্রভাব বিস্তার করেন। তার ভয়ে ছাত্ররা তো দূরের কথা অন্য শিক্ষকরাও অসহায়।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরীন চৌধুরী বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। যদি সত্যতা পাওয়া যায় তাহলে বিধি মোতাবেক ঐ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।