সচিব পরিচয়ে প্রতারণা, হাতিয়ে নিতেন মোটা অঙ্কের টাকা

চাকরি আর সরকারি প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেওয়ার নামে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া একটি আব্দুল কাদের নামে এক ব্যক্তিসহ প্রতারক চক্রের পাঁচ সদস্যকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। অতিরিক্ত সচিব পরিচয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিত এ চক্রটি। বৃহস্পতিবার রাতভর চলা এ অভিযানে জব্দ করা হয়েছে বিপুলসংখ্যক নথি।

রাজধানীর গুলশান ১ জব্বার টাওয়ারের বিলাসবহুল অফিসটি দেখে বোঝার উপায় নেই সেখানে মানুষ ঠকানোর ব্যবসা চলছে। আব্দুল কাদের স্কুলের গন্ডি না পেরুলেও অতিরিক্ত সচিব পরিচয়ে সরকারি লোন, শতকোটি টাকার কাজ পাইয়ে দেওয়াসহ নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিত কোটি কোটি টাকা। এমন বেশ কিছু অভিযোগের ভিত্তিতে গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালায় অফিসটিতে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশিদ বলেন, প্রতারক চক্রের প্রতারণার পদ্ধতিটা এরকম-১৫০ কোটি টাকার ওয়ার্ক অর্ডার, প্রায় ১০ জন এসে গেল। বলা হয়, এখান থেকে ১০ শতাংশ অর্থাত্ ১৫ কোটি টাকা দিতে হবে। চেকটি ডাউনপেমেন্ট। সে চেকটি আগেই নিয়ে নিত। বলত আপনাকে ১৫০ কোটি টাকা দিয়ে দিচ্ছে, আপনি ডাউনপেমেন্টের চেক আমাকে দেন। এ কথা বলে সে ১৫ কোটি টাকার চেক নিত। চেকটি নেওয়ার পর সে লোন আদায় করে তো দিলই না, উলটো ঐ ব্যক্তিকে ১৫ কোটি টাকা পাওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে হয়রানি করত।

ক্যাসিনো কাণ্ডের সময় সমালোচিত ব্যবসায়ী জি কে শামীমের সঙ্গে সখ্যতার প্রমাণ মিলেছে অফিস থেকে জব্দ করা নথিতে। এছাড়া সমালোচিত ব্যবসায়ী মুসা বিন শমসেরের সঙ্গে ব্যাংকিং লেনদেনেরও প্রমাণ পায় গোয়েন্দারা।

ডিবি উত্তরের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হারুন অর রশিদ বলেন, বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে সে একজন আন্তর্জাতিক প্রতারক এবং সে বহু মানুষকে ঠকিয়েছে। ব্যবসার নামে এখানে তার সঙ্গে আরো কিছু রাঘব বোয়াল রয়েছে, যাদের যোগসাজশে সে এ কাজগুলো করেছে। তাদেরও আমরা তদন্তের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করব।  এ প্রতারক চক্রের সঙ্গে অনেকেই জড়িত আছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ।