বার্লিনের মার্কিন দূতাবাসে ‘হাভানা সিনড্রোম’ নিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ

২০১৬ সালে প্রথম কিউবার রাজধানী হাভানায় যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা দূতাবাসের কর্মীরা মাথা ঘোরা, ভারসাম্যহীনতা, কানে কম শোনা, স্মৃতি হারানো ও দুশ্চিন্তার মতো লক্ষণের

কথা জানিয়েছিলেন

বিবিসি

জার্মানিতে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের একাধিক কর্মী তাদের দেহে তথাকথিত হাভানা সিনড্রোমের উপসর্গ পাওয়ার কথা জানানোর পর এ নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্লিনের পুলিশ।

‘যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের কর্মীদের ওপর সনিক অ্যাটাকের অভিযোগ’ চলতি বছরের অগাস্ট থেকে খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে, শুক্রবার বলেছে তারা। ২০১৬ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের দুই শতাধিক কর্মী এ রহস্যজনক অসুখে ভোগার কথা জানিয়েছেন। শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এই ‘সিনড্রোমের’ কারণ ও কারা এর পেছনে তা খুঁজে বের করার অঙ্গীকার করেছেন। আক্রান্তরা জানিয়েছেন, তাদের হঠাত্ হঠাত্ মাথার ভেতর চাপ অনুভব করা ও নির্দিষ্ট একটি দিক থেকে আসা অদ্ভুত গুঞ্জন শুনতে পাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়েছে। অনেকে মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, ক্লান্তি, তীব্র মাথাব্যথা ও স্মৃতি হারানোর মতো উপসর্গের কথা জানিয়েছেন।

জার্মানির যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের এক মুখপাত্র ?কর্মীদের দেহে হাভানা সিনড্রোমের উপসর্গ নিয়ে বার্লিন পুলিশের তদন্ত বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি না হলেও বিশ্বব্যাপী এই ধরনের ঘটনাগুলো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তদন্ত করছে। ‘হাভানা সিনড্রোমে’ ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আরো ভালো চিকিত্সাসেবা ও অর্থনৈতিক সহায়তা বাড়ানোর একটি বিলে স্বাক্ষর করার সময় বাইডেন রহস্যজনক এই অসুখের কারণ খুঁজে বের করার আশ্বাস দেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ‘হাভানা সিনড্রোমকে’ কোনো হামলার ফলাফল না বলে ‘অস্বাভাবিক স্বাস্থ্যগত ঘটনা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, বিশ্ব জুড়েই সরকারি কর্মী, গোয়েন্দা কর্মকর্তা, কূটনীতিক ও সামরিক বাহিনীর সদস্যরা এই সিনড্রোমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ লক্ষণ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন।

২০১৬ সালে প্রথম কিউবার রাজধানী হাভানায় যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা দূতাবাসের কর্মীরা মাথা ঘোরা, ভারসাম্যহীনতা, কানে কম শোনা, স্মৃতি হারানো ও দুশ্চিন্তার মতো লক্ষণের কথা জানিয়েছিলেন। পরে এ ধরনের আরো ঘটনার খবর মেলে। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের এক বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা করে কিউবায় অসুস্থ হওয়া কূটনীতিকদের ‘মস্তিষ্কে অস্বাভাবিকতা’ খুঁজে পায়। এরপর গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় বিজ্ঞান একাডেমির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্ভবত মাইক্রোওয়েভ বিকিরণই এই রহস্যময় রোগের কারণ। জুলাইয়ে সিআইএয়ের পরিচালক উইলিয়াম বার্নস বলেছিলেন, এই সিনড্রোমের পেছনে রাশিয়ার হাত থাকার ‘সমূহ সম্ভাবনা রয়েছ’। তবে মস্কো দৃঢ়ভাবে এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

 

জার্মানির বার্লিনে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস