জাপার মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু

জাতীয় পার্টির (জাপা) নতুন মহাসচিব নিযুক্ত হয়েছেন দলটির কো-চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চুন্নু। জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদের দলের গঠনতন্ত্রে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে গতকাল শনিবার এক সাংগঠনিক আদেশে তাকে মহাসচিব নিয়োগ দেন। জাপার মহাসচিব পদে প্রয়াত জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুর স্থলাভিষিক্ত হলেন চুন্নু। করোনায় আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর শ্যামলীতে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিসাধীন অবস্থায় গত ২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন বাবলু।

কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের জাপা দলীয় সংসদ সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু সরকারের গত মেয়াদে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। বর্তমানে তিনি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি।

মহাসচিব নিযুক্ত হওয়ার পর মুজিবুল হক চুন্নু ইত্তেফাককে বলেন, ‘পার্টির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী চেয়ারম্যান যে কাউকে মহাসচিব পদে নিয়োগ করতে পারেন।              আমাকে এই দায়িত্ব দেওয়ায় আমি চেয়ারম্যানের প্রতি কৃতজ্ঞ। দলের সব নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে সংগঠনকে শক্তিশালী করার প্রয়াস থাকবে আমার।’

জিয়াউদ্দিন বাবলুর মৃত্যুর পরপরই জাপার বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা মহাসচিব হওয়ার জন্য তত্পর হয়ে ওঠেন। তবে দলের তরুণ নেতা ও গাইবান্ধা-১ আসনের এমপি ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীকে মহাসচিব করতে চেয়েছিলেন জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদের। এই খবরে প্রতিবাদী হয়ে ওঠেন মহাসচিব হতে আগ্রহী সিনিয়র নেতারা। নিজেরা বৈঠক করে অপেক্ষাকৃত জুনিয়র নেতা শামীম হায়দারকে মহাসচিব না করতে এবং সিনিয়রদের মধ্য থেকে কাউকে মহাসচিব করার জন্য তারা দলের চেয়ারম্যানের প্রতি আহ্বান জানান।

ঐ সময় জি এম কাদের ইত্তেফাককে বলেছিলেন, ‘চেয়ারম্যান ও মহাসচিব হচ্ছেন পার্টির ফেইস (চেহারা)। চেয়ারম্যান ও মহাসচিবের ইমেজের (ভাবমূর্তি) ওপরই পার্টির ইমেজ নির্ভর করে। যাকে মহাসচিব করলে দেশের মানুষ খুশি হবেন, এরকম কাউকেই করা হবে। যার বিরুদ্ধে মনোনয়ন ও পদ-পদবি বিক্রির অভিযোগ নেই এবং শিক্ষিত তাকেই মহাসচিব করা হবে। অতীতে কারো কারো বিরুদ্ধে মনোনয়ন ও পদবাণিজ্যের অভিযোগ ছিল, এ নিয়ে পার্টির ইমেজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

মুজিবুল হক চুন্নুকে মহাসচিব করায় জাপার নেতাকর্মীরা জি এম কাদেরকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। দলের বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে চুন্নুকেও শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।