শরীয়তপুর-চন্দ্রপুর-শিবচর সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ

কীর্তিনাশা নদী ভাঙনের কারণে শরীয়তপুর-চন্দ্রপুর-শিবচর সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে ওই সড়কের সদর উপজেলার হাজরাসার এলাকা দিয়ে ২০০ মিটার অংশ নদীতে ধসে পড়ে। এরপর থেকেই ওই স্থান দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

১৫ মাসেও সড়কের ওই অংশটি সংস্কার করা হয়নি। সড়কটি সংস্কারে সংশ্লিষ্ট তিনটি বিভাগের দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সড়ক দিয়ে সদর উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের মানুষ জেলা সদরসহ ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর যাতায়াত করে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ও শরীয়তপুর পৌরসভার সমন্বয়হীনতার কারণে সড়কটি দীর্ঘদিন যাবত্ ভাঙনের কবলে পড়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তিন বছর ধরে একটু একটু করে সড়কের অংশ নদীতে বিলীন হলেও কোনো দপ্তরই এটি রক্ষায় উদ্যোগ নেয়নি।

শরীয়তপুর পৌর এলাকার হাজরাসার গ্রামের বাসিন্দা মো. আমীর হোসেন বলেন, বাড়ির সামনে কীর্তিনাশা নদী। নদীর তীর দিয়ে সড়ক হওয়ায় আমরা ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা পেয়েছিলাম। তিন বছর ধরে সড়কটি ভাঙছে, কিন্তু কেউ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

শরীয়তপুর শহরের পিকআপ-ভ্যান চালক জয়নাল আবেদিন বলেন, কোনো মালামাল নিয়ে সড়কটি দিয়ে যেতে পারি না। অল্প কিছু স্থান ভাঙা থাকায় আমাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ১৮-২০ কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে শরীয়তপুর পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলাম বলেন, সড়কটি এলজিইডির। তাই আমরা বড় প্রকল্প নিতে পারছি না। তাছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডকে চিঠি দিয়েছি ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য। এলজিইডি যদি সড়কটি সংস্কার না করে এবং পাউবো ভাঙন রোধ না করলে পৌরসভা ওই সড়ক সংস্কারে উদ্যোগ নেবে।

শরীয়তপুর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী একেএক বাদশা মিয়া বলেন, শরীয়তপুর-চন্দ্রপুর-শিবচর সড়কটির ওই অংশ পৌরসভার মধ্যে রয়েছে। স্থানীয় সরকারের ২০১৭ সালের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ওই অংশের যাবতীয় উন্নয়ন কাজ পৌরসভা করবে। এ কারণে আমরা সড়কে ওই অংশটিতে কোনো কাজ করছি না।

শরীয়তপুর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকাশ কৃষ্ণ সরকার বলেন, কীর্তিনাশা নদীর ওই অংশটিতে ভাঙন রোধ করার একটি প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এখনো টাকা বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। বরাদ্দ পেলে ওই অংশ ভাঙন রোধ করার উদ্যোগ নেয়া হবে।