মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে চার বছর প্রেসিডেন্ট ছিলেন সেই সময়কালে ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত তার ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল হোটেল ৭০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৬০০ কোটি টাকা) লোকসান গুনেছে। অথচ ওই সময়টাতে হোটেলটি যে প্রকাশ্য আর্থিক বিবরণী প্রকাশ করেছিল তাতে কোটি কোটি ডলার লাভ হয়েছে দেখানো হয়েছিল। হাউজ ওভারসাইট কমিটি একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে যাতে এসব কথা বলা হয়েছে। এই রিপোর্টে আরো দেখানো হয়েছে ট্রাম্পের এই হোটেল বিভিন্ন দেশের সরকারের নিকট থেকে ৩ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৩১ কোটি টাকা) লোন পেয়েছে। কিন্তু কিছু লোন কখনোই পরিশোধ করা হয়নি। ফলে এসব সরকারের সঙ্গে স্বার্থগত সম্পর্ক ছিল এমন সন্দেহ করা হচ্ছে। এসব লোনের তথ্য এই হোটেল কর্তৃপক্ষ কখনোই প্রকাশ করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কোনো সাবেক প্রেসিডেন্টের আর্থিক বিষয়াদি নিয়ে তদন্ত এবং তা প্রকাশ্যে আনার ঘটনা এটাই প্রথম। তবে ট্রাম্প অর্গানাইজেশন জোরালোভাবে কংগ্রেস কমিটির এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, ট্রাম্প নিজে কিংবা তার কোনো প্রতিষ্ঠান কোনো অন্যায় কাজ করেনি।
কংগ্রেস কমিটির রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০১৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত মেয়াদে ট্রাম্পের ওই বিলাসবহুল হোটেল ১৫৬ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা) আয় করেছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই চার বছরে ৭০ মিলিয়ন ডলার লোকসান গুনে হোটেলটি তার খরচ চালাতে ট্রাম্পের ডিজেটি হোল্ডিংস লিমিটেড থেকে ২৭ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ২৩০ কোটি টাকা) লোন নিয়েছিল। এর মধ্যে মাত্র ৩ মিলিয়ন ডলারের মতো ওই হোল্ডিংস কোম্পানিকে শোধ করতে পেরেছিল ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল হোটেল। রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে জার্মানির একটি ব্যাংক থেকে ১৭০ মিলিয়ন ডলার লোন নিয়েছিল ট্রাম্পের ওই হোটেলটি। ২০১৮ সালে লোন পরিশোধ শুরু করার কথা ছিল। কিন্তু হোটেলটি ঋণ পরিশোধে আরো ৬ বছর সময় বাড়িয়ে নেয়।
এদিকে, ট্রাম্পের অর্গানাইজেশন এক বিবৃতিতে বলেছে কংগ্রেসের এই প্রতিবেদনে ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্যের বিকৃতি ঘটানো হয়েছে যা দায়িত্বজ্ঞানহীতার অকাট্য উদাহরণ। প্রতিবেদনকে পুরোপুরি মিথ্যা বলে আখ্যা দিয়েছে তার প্রতিষ্ঠান।