নেত্রকোনা প্রতিনিধি
নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার সিধলী জিসি শাখা সড়কটি নির্মাণের তিন বছরের মধ্যেই বেহাল হয়ে পড়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে নির্মিত ১৩ দশমিক ২৯০ কিলোমিটার সড়কটিতে এরই মধ্যে প্রায় শতাধিক খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এ সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যাত্রীবাহী যানবাহন এবং পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, নেত্রকোনার ঠাকুরাকোনা থেকে কলমাকান্দা পর্যন্ত নির্মিতব্য প্রধান সড়কটির কাজ যথাসময়ে শেষ না হওয়ায় সিধলী সড়কটি বিকল্প হিসেবে ব্যবহার এবং যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় বেহাল হয়ে পড়েছে। তারা জানান, কলমাকান্দা উপজেলার কৈলাটি ইউনিয়নের সিধলী বাজারটি সোমেশ্বরী নদীর পাড়ে অবস্থিত। নদীর দক্ষিণ পাড়ে নেত্রকোনা সদর উপজেলার কালিয়ারা গাবড়াগাতী ইউনিয়ন, পশ্চিমে দুর্গাপুর উপজেলার বাকলজোড়া ইউনিয়ন এবং পূর্ব-দক্ষিণ কোণে বারহাট্টা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়ন পড়েছে। কলমাকান্দাসহ চারটি উপজেলার মানুষ এই বাজারে কেনাবেচা করতে আসেন। যে কারণে সিধলী বাজারটি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, ঠিক তেমনি এই সড়কটিও জনসাধারণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কংস নদের ব্রিজ পার হয়ে হাতকুন্ডুলি থেকে সিধলী বাজার পর্যন্ত অসংখ্য খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। অল্প বৃষ্টির পানিতেই ট্রাক, লড়ি অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের চাকা আটকে যাচ্ছে। কোনাপাড়া এলাকায়ই সড়কটির অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ। অটোরিকশা চালক মনি চন্দ্র সরকার ও হোন্ডা চালক সুমন মিয়া জানান, এই সড়কটির ওপর চাপ বেশি পড়ছে। এছাড়া ধারণক্ষমতার অধিক ধানবোঝাই ট্রাক ও অবৈধ বালুবোঝাই লড়ি চলাচলের কারণে সড়কটির এই দুরবস্থা।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পুলকেশ সরকার অপু বলেন, এই সড়টির আশপাশে অর্ধশতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। স্কুলে যাওয়ার জন্য এই সড়কটিই একমাত্র ভরসা। কিন্তু অল্প বৃষ্টিতেই সড়কটিতে পানি জমে যাওয়ায় ছাত্র-ছাত্রীসহ শিক্ষকদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এছাড়া ৪০ টন ৫০ টন পাথরবোঝাই ট্রাক এই সড়ক দিয়ে চলাচল করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
সড়কটির সংস্কারের ব্যাপারে জানতে চাইলে নেত্রকোনা সদর উপজেলার প্রকৌশলী এস এম লুত্ফর রহমান বলেন, আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা আছে; আগামী তিন মাসের মধ্যে সড়কটির ১০০ মিটারের মধ্যে ইট বিছানো হবে।