ফুটবল মাঠ থেকে উধাও চট্টগ্রাম মোহামেডান

জাকির হোসেন লুলু, চট্টগ্রাম অফিস

হাবুডুবু খাচ্ছে চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। একেবারে বেহাল অবস্থায় রয়েছে।  দুই বছর ধরে বন্ধ ক্লাবের কার্যক্রম। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ক্যাসিনো ও জুয়ার বোর্ড বসানোর অভিযোগে সারা দেশের অভিযানে চট্টগ্রাম মোহামেডানের দরজায়ও তালা দিয়েছিল যৌথ বাহিনী। এখনো বন্ধ দরজা খোলেনি। অথচ চট্টগ্রামেরই আরেকটি দল চট্টগ্রাম আবাহনী বাংলাদেশে প্রিমিয়ার লিগে খেলে যাচ্ছে দাপটের সঙ্গে। পরিকল্পনাহীন পথচলা আর সাংগঠনিক অদূরদর্শিতায় মুখ থুবড়ে পড়েছে মোহামেডান।

নগরীর সদরঘাট রোডস্থ চট্টগ্রাম মোহামেডানের ক্লাব ঘরটি পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে এখন। দিনরাত কোলাহলে ভরপুর ক্লাবে এখন পিনপতন নীরবতা বিরাজ করছে। ক্লাবে আসেন না কোনো কর্মকর্তা, সংগঠক, খেলোয়াড় ও সমর্থক। বিভিন্ন সংস্থার কাছে দেনা রয়েছে প্রায় ১০/১২ লাখ টাকা। 

স্বাধীনতা-উত্তরকালে স্থানীয় ফুটবল লিগে বহুবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। চট্টগ্রাম মোহামেডানের জার্সি গায়ে শহিদ উদ্দিন সেলিম, মোহসীন, ক্রিকেটার তামিম ইকবালের বাবা ইকবাল খান, কাওসার, দিলীপ বড়ুয়ারা খেলেছেন। আশি ও নব্বইয়ের দশকে ফুটবলের জনপ্রিয়তা যখন তুঙ্গে সে সময়  বাদল রায়, মোনেম মুন্না, কায়সার হামিদ, সাব্বির ও আরিফ খান জয়দের মতো তারকা ফুটবলারও চট্টগ্রাম মোহামেডনের জার্সি গায়ে চাপিয়েছেন। 

১৯৫০ সালে চট্টগ্রাম নগরীর বেশ কয়েকজন ধনাঢ্য পরিবারের সন্তানের সমন্বয়ে গড়া চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া সংগঠন মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের উদ্দেশ্য এখন ব্যাহত। মূলত ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে যাত্রা শুরু হয়েছিল। অথচ এখন ফুটবল মাঠ হতেই উধাও হয়ে গেছে। ফুটবলে সম্পর্ক ছিন্ন প্রায় একযুগ। প্রতিষ্ঠার পর হতে ফুটবলের ঐতিহ্য ধরে রেখেছিল ক্লাবটি। হারাতে বসেছে এখন সে ঐতিহ্য। চট্টগ্রামে প্রিমিয়ার ফুটবল লিগের পাশাপাশি নব্বইয়ের দশকে দেশের জনপ্রিয় ফুটবল আসর নিটল টাটা ফুটবল লিগেও দাপুটে বিচরণের পর ২০০৭ সালে ফুটবল দলটি বাফুফেতে পেশাদার লিগে তালিকাভুক্ত হয়। সে আসরে শুরুর দিকে আলো ছড়ালেও পরবর্তী সময় ধারাবাহিকতা ছিল না। অবনমন হয় দলটির। পেশাদার লিগ হতে নেমে যেতে হয়। নেমে গিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি। ২০১০ সালের পর মোহামেডানকে আর ফুটবলের সঙ্গে দেখা যায়নি। 

ষাটের দশক হতে নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত চট্টগ্রামে ফুটবল লিগে দলটির প্রাধান্য ছিল একচ্ছত্র। সোনালি দিনের ফুটবলে উজ্জ্বলতা ছড়ানো চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব জীর্ণশীর্ণ।

শুধু ফুটবল নয়, ধুঁকছে ক্রিকেটেও। কয়েক মৌসুম ছিল খুবই শোচনীয় অবস্থায়। ২০১৯ সালে প্রথম বিভাগ হতে কোনোক্রমে উত্তীর্ণ হয়ে ফিরে আসে প্রিমিয়ার ক্রিকেটে। কিন্তু করোনার প্রাদুর্ভাবে লিগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় খেলার সুযোগ হয়নি তাদের । ফুটবলে আগ্রহ হারালেও স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে অন্য খেলাধুলায় রয়েছে ঈর্ষণীয় সাফল্য। বিশেষ করে হকি, কাবাডি, ভলিবল, হ্যান্ডবল, ব্যাডমিন্টন ও দাবার মতো ডিসিপ্লিনে মোহামেডানের ধারেকাছেও নেই অন্যরা। চট্টগ্রামের প্রিমিয়ার লিগে মোহামেডান ব্লুজ নামে একটি দল আছে তাদের। এটির সঙ্গে মোহামেডান নামটি জুড়ে আছে বলেই মূল দল মোহামেডানকে মুছে দিচ্ছেন কর্মকর্তারা। চট্টগ্রাম মোহামেডানের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শাহাবুদ্দিন শামীম জানান, ঢাকার মোহামেডানের বর্তমান কার্যক্রমের অনুপ্রেরণায় চট্টগ্রাম মোহামেডান এগিয়ে যাবে। শিগিগরই প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে ক্লাব ঘর খুলে কার্যক্রম পরিচালনা করব । তারপর নির্বাচন। ফুটবল হতে বিচ্ছিন্ন কেন? শামীম বলেন, ‘চট্টগ্রাম প্রিমিয়ার ফুটবল লিগে যেহেতু মোহামেডান ব্লুজ নামে একটি দল খেলছে, সেহেতু মূল দলটিকে এই লিগে খেলানোর প্রয়োজন মনে করি না। তবে চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে খেলার আশা আছে। লিগ খেলতে ব্যাপক অর্থের প্রয়োজন। ভালো পৃষ্ঠপোষক পাওয়া গেলেই আবার ফিরে আসবে।’