প্যাকেটজাত প্রতিটি পণ্যর গায়ে এমআরপি [ম্যাক্সিমাম রিটেইল প্রাইজ] মুদ্রিত থাকে। বাংলা শব্দ সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য। এতে মূল্য সংযোজন করসহ থাকে। এমআরপি হচ্ছে মূল্যর শেষ অবস্থান। একজন বিক্রেতা যাতে এই দামের বাইরে যেতে না পারেন। বিক্রেতার জন্য দাম বলার সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য লিপিবদ্ধ হচ্ছে এমআরপি। বিক্রেতা যেমন এমআরপি টপকাতে পারে না। এখানে ক্রেতারও কথা বলার জায়গা আছে। মানে দামাদামি করার। এমআরপি মূল্য ক্রেতার জন্য অবশ্যই নির্ধারিত মূল্য নয়। একটা মূল্যর শেষ সীমানা মাত্র। তাই ক্রেতা যদি কোনো পণ্য এমআরপিতে দেওয়া মূল্যই পুরোটা পরিশোধ করে, তাহলে ক্রেতাই ঠকবে। জিতবে বিক্রেতা। এখানেই ভোক্তা অধিকারের বিষয়টা আসে।
আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতে রাজ্য সরকার থেকে প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ায় ভোক্তা অধিকার নিয়ে সচেতনতামূলক প্রচারণার প্রচলন চোখে পড়ে। ভারতীয়রা এ বিষয়ে দারুণ সচেতনও বটে। কোনোকিছু কেনাকাটা করতে গেলে তারা কথা বলে দাম কমিয়ে নেয়। তাদের বিক্রেতারাও বিষয়টি ভালোভাবে জানে বলে ক্রেতা বিক্রেতায় সমন্বয় থাকে।
আমাদের দেশে প্যাকেটজাত পণ্য ক্রয়ে প্যাকেটের গায়ে মুদ্রিত এমআরপির সর্বোচ্চ মূল্যটাই বলে বিক্রেতা। অধিকাংশ ক্রেতাই আর কিছু না বলে পুরো মূল্য পরিশোধ করেন। অধিকাংশ ক্রেতার মধ্যেই ভুল ধারণা রয়েছে যে গায়ে লেখা দামই শেষ দাম। এই সুযোগটা নিচ্ছে বিক্রেতারা, তারাও মনে করে দাম তো লেখাই আছে কম নেব কেন। প্যাকেটজাত পণ্যের এমআরপি নিয়ে ভোক্তা অধিকার চর্চা প্রচলিত নয় বলে, এটা যে দামাদামি করা আইন সম্মত অধিকার সে বিষয়টি প্রসারিত হয়নি। এমআরপি বিক্রেতার জন্য শেষ মূল্যসীমা মাত্র। ক্রেতা মূল্য নিচে নামাতে পারবে, দরাদরি চলতে পারে। এই ভোক্তা অধিকার আইন আমাদের দেশেও আছে। তার প্রচলনটা সেই রকম না থাকায় স্বয়ং ভোক্তাও জানেন না তাঁর অধিকারটা কী? বিক্রেতাও জানেন না আরো বিষয় আছে, ভোক্তা অধিকার মূল্য লিপিবদ্ধই শেষ নয় ।
এই অবস্থায় কোনো সচেতন ক্রেতা যদি ভোক্তা অধিকারের কথা মাথায় রেখে, প্যাকেটজাত পণ্য ক্রয়ে দামাদামি করে এতে বিক্রেতারা এই ধরনের ক্রেতাকে পছন্দ করেন না। এই ধরনের ক্রেতা, বিক্রেতাদের মাঝে বাজে ধারণার জন্ম দেয়। আর বিক্রেতাও এই অপ্রচলিত সমাজে ভোক্তা অধিকার পেতে গিয়ে উলুবনে মুক্তা ছিটানোর মতো পরিস্থিতিতে পড়েন শুধু। অধিকার তো পানই না। ভোক্তা অধিকার সচেতনতার বিষয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত আমাদের জন্য অনুসরণীয় হতে পারে। আশা করি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তারা ভেবে দেখবেন।
মির্জা আবু হেনা কায়সার টিপু, উত্তরা, ঢাকা