‘সিরিজটা কঠিন হবে’

স্পোর্টস রিপোর্টার

৫, ১৫, ১৩, ১৪ - ইনজুরির কারণে ছিটকে পড়ার আগে ভারতের বিপক্ষে প্রথম চার ওয়ানডেতে তার স্কোরগুলো ছিল এমন। এটুকু বললেই বোঝা যায় সময়টা ভালো যাচ্ছে না মার্টিন গাপটিলের।

যদিও, নেপিয়ারের ম্যাকলিন পার্কে আরেকটি সিরিজের দুয়ারে অবশ্য মার্টিন গাপটিলের চেহারাটা খুব বেশি মনমরা লাগলো না। মাঠে অনুশীলন করছিলেন ৩২ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান, স্ট্যান্ডে বসে অপেক্ষায় আছেন টেলিভিশন প্রেজেন্টার স্ত্রী লরা ম্যাকগোল্ডরিক ও ১৪ মাস বয়সী কন্যা হারলি। সুখী পরিবারে যেমন হয়, দৃশ্যটা ঠিক তেমনই।

এর মাঝে অবশ্য গাপটিলের সংগ্রামটা গোপন করা গেল না। ১৬৬টি ওয়ানডের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন গাপটিলের ক্যারিয়ারটা বেশ সমৃদ্ধই। ১৪টি সেঞ্চুরি আর ৩৪টি হাফ সেঞ্চুরি তিনি পেয়েছেন ৫০ ওভারের ক্রিকেটে। কিন্তু, বয়স তো ফুরিয়ে যাচ্ছে। তার সাথে ইনজুরি জনিত কারণে ফিটনেস নিয়েও আছে শঙ্কা।

গাপটিল অবশ্য ঘাবরাচ্ছেন না। তিনি সুদিনের অপেক্ষায় আছেন। বললেন, ‘ক্রিকেটে এটা হতেই পারে। এই সময় একটা ভালো ইনিংসই সব পাল্টে দেবে। ইনজুরির জন্য এই সময়টা খুব আদর্শ নয়। তবে পেশাদার খেলোয়াড়দের জীবনে এই সময়টা আসতেই পারে। দুর্ভাগ্যজনক ভাবে আমাদের ইনজুরিতে পরতে হয়। হ্যাঁ, এটা সত্যি যে গত কয়েক বছর ধরে আমার জন্য এই দুর্ভাগ্যটা একটু বেশিই আসছে। আশাকরি কাল (আজ) আমি আত্মবিশ্বাস আর পরিষ্কার একটা মন নিয়ে ব্যাট করতে নামতে পারবো।’

শেষবার বাংলাদেশ যখন নিউজিল্যান্ডের মাটিতে খেলতে এসেছিল, সেবার সবগুলো ফরম্যাটের সব ম্যাচেই পরাস্ত হয়েছিল। তবুও গাপটিল সমীহই করছেন বাংলাদেশকে। এর কারণটা হল ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেই বিখ্যাত ম্যাচ। সেই ম্যাচে সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ২২৪ রানের বিশাল এক জুটি গড়ে নিউজিল্যান্ডের ২৬৫ রান তাড়া করে জয় ছিনিয়ে আনেন।

গাপটিল তাই এবার সতর্ক। বললেন, ‘বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজটা কঠিন হবে। ওরা কি করতে পারে সেটা কয়েক বছর আগে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে আমাদের হারিয়েই দেখিয়ে দিয়েছে। আমরা অবশ্য ভালো একটা শুরু করার ব্যাপারে আশাবাদী। লম্বা সময়ের সিরিজের জন্য শুরুটা ভালো হওয়া জরুরি। প্রতিটা ম্যাচই ক্রিকেটে আমাদের আলাদা আলাদা কিছু ব্যাপারে শিক্ষা দেয়। এটাই ক্রিকেটের সৌন্দর্য্য। এটা সম্পূর্ণ নতুন একটা ম্যাচ। আশা করি এবার আমরা আত্মবিশ্বাসের সাথে নিজেদের কাজটা ঠিকমত করতে পারবো।’

সাকিবের ইনজুরি প্রসঙ্গেও কথা বললেন গাপটিল। তবে, এর কারণে নিউজিল্যান্ড কতটা সুবিধা পাবে সেসব নিয়ে নয়, বরং দ্রুত ফেরার জন্য সাকিবের প্রতি শুভকামনাই জানালেন তিনি। সদ্যই ইনজুরি কাটিয়ে ওঠা গাপটিলের চেয়ে ভালো ইনজুরির যন্ত্রণা আর কেই বা বোঝেন। তিনি বললেন, ‘সাকিব বিশ্বমানের একজন ক্রিকেটার। ও সারা বছর প্রচুর ক্রিকেট খেলে। আর ক্রিকেটে ইনজুরি তো থাকবেই। এবার একটা বিশ্রাম পেল। সম্ভবত সিরিজের শেষ ভাগেই ও আবার ফিরবে।’