বড় কিছুর আশা করছেন না তাইজুল

স্পোর্টস রিপোর্টার

বিপিএলের পর মিরপুর স্টেডিয়াম এখন ভাঙা হাট। সুনসান নীরবতা স্টেডিয়াম জুড়ে। গতকাল মূল মাঠে জাতীয় দলের সাবেক ফিল্ডিং কোচ ও স্পিন বিশেষজ্ঞ সোহেল ইসলামের সঙ্গে বোলিং করছিলেন তাইজুল ইসলাম। সেন্টার উইকেটে তাইজুলের সঙ্গী নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট দলে ডাক পাওয়া ডানহাতি পেসার এবাদত হোসেন।

হ্যামিল্টনে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্ট শুরু হবে ২৮ ফেব্রুয়ারি। টেস্ট খেলতে ১৫ ফেব্রুয়ারি দেশ ছাড়বেন তাইজুল-এবাদত। বিপিএল শেষে টেস্টের জন্য প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন তারা। গত চারদিন ধরে মিরপুরে ব্যাটিং, বোলিংয়ের পাশাপাশি, ফিটনেস নিয়েও কাজ করছেন।

এবাদত এবারই প্রথম টেস্ট দলে ডাক পেয়েছেন। তাইজুল টেস্ট দলের পরীক্ষিত স্পিনার। চোটের কারণে নিউজিল্যান্ডে প্রথম টেস্টেও অনিশ্চিত সাকিব আল হাসানের অংশগ্রহণ। এমনও হতে পারে টেস্ট সিরিজটা মিস করতে পারেন সাকিব। সেক্ষেত্রে বাঁহাতি স্পিনার হিসেবে তাইজুলের উপরই থাকবে বড় দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট ২৭ বছর বয়সী এই স্পিনার। গতকাল মিরপুর স্টেডিয়ামে তিনি বলেছেন, নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করবেন।

তাইজুল মনে করিয়ে দিয়েছেন, নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনে স্পিনারদের ঘূর্ণি জাদু দেখানোর সুযোগ কম। সেক্ষেত্রে খুব বড় কিছু করার আশা করছেন না তিনি নিজেও। তবে ২৩ টেস্টে ৯৭ উইকেট পাওয়া তাইজুল নিউজিল্যান্ডেই তৃতীয় বাংলাদেশি বোলার হিসেবে উইকেটের সেঞ্চুরি পূর্ণ করার আশা করতেই পারেন।

নিউজিল্যান্ডে বোলিংয়ে নিজের টার্গেট জানাতে গিয়ে তাইজুল বলেছেন, ‘অনেক বড় কিছু করা যাবে এটা আসলে ভুল। ওদের কন্ডিশনে অনেক বড় কিছু করা সম্ভব না, কপালে থাকলে আবার হতেও পারে। কিন্তু যদি রান কম দিয়ে ২-৩টা উইকেট নেওয়া যায় তাহলে দলের জন্য ভালো আর কি। নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী দলের জন্য যতটুকু করা যায়।’

সাকিবের অনপুস্থিতিতে স্পিন আক্রমণের গুরুভার পালন প্রসঙ্গে তাইজুল বলেছেন, ‘সাকিব ভাই নেই, এটা আমাদের জন্য একটু হলেও খারাপ। তারপরেও যদি সে খেলে তাহলে ভালো। আর যদি না খেলেন তাহলে আমার উপর বড় দায়িত্ব আসতে পারে। আমি চেষ্টা করবো নিজের সেরাটা দেওয়ার এবং নিজে ভালো কিছু করার।’

একাদশে সাকিব থাকলে অনেক সময় তাইজুলের অবস্থানটা অনুভব হয় না। সাকিব বিহীন সিরিজে বিদেশে নিজেকে মেলে ধরার সুযোগ এখন তার সামনে। বাঁহাতি এই স্পিনার বললেন, সাকিব থাকলেই বরং তার জন্য ভালো। গতকাল বলেছেন, ‘যখন সাকিব ভাই থাকেন না তখন আমার জন্য সুযোগটা বেশি থাকে বোলিং করার। আর যখন তিনি থাকেন তখন দু’জনই সমান সমান বোলিং করি, বা একটু কম-বেশি হয়। উনি থাকলে অনেক সাহায্য পাওয়া যায়, অনেক ক্ষেত্রেই। উনি অনেকদিন ধরে ক্রিকেট খেলছেন, আমাদের তুলনায় তিনি সবকিছু ভালো বোঝেন। এই সাহায্যগুলো পাওয়া যায় আর কি।’

আগে যাওয়ায় কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সুবিধা হবে তাইজুলের। ওয়ানডেতে সাকিবের বদলি কাউকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। এমনও হতে পারে দলের প্রয়োজনে ওয়ানডেতে খেলানো হতে পারে এই বাঁহাতি স্পিনারকে। চারটি ওয়ানডে খেলা তাইজুল এই চ্যালেঞ্জ নিতেও প্রস্তুত।