আগাম শীতের আমেজ
পঞ্চগড় প্রতিনিধি
হিমালয়কন্যা খ্যাত শীতপ্রবন জেলা পঞ্চগড়ে কুয়াশার চাদর ভেদ করে সূর্য উদয় হয়েছে। এবারের মৌসুমে এই প্রথম কুয়াশা দেখতে পেয়েছে পঞ্চগড়বাসী। আড়মোড়া ভেঙে কুয়াশার সকালের মিষ্টি রোদে অবগাহন করল এলাকার মানুষ। গত কয়েক দিন হতে দিনের বেলা গরম শেষ রাতে শীত অনুভূত হচ্ছে। রবিবার গভীর রাতে আকস্মিক ঘনকুয়াশা দেখা গেছে। এর রেশ ছিল সকাল অবধি। সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গরম ভাব ছিল। ফ্যান চালাতে হয়েছে। কিন্তু শেষ রাতে হালকা কাঁথা কম্বল গায়ে চড়াতে হচ্ছে।
সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত কুয়াশার বিস্তৃতি ছিল। ধান খেত মাঠ ঘাট, গাছপালা, ঘরবাড়িসহ চারদিক কুয়াশায় ভিজে গেছে। কুয়াশায় ফসলের খেতে শিশিরের ফোটা চক চক করছে। কুয়াশার কারণে সকালে যানবাহন লাইট জ্বালিয়ে চলেছে। সকাল ৮টার পর সূর্যের মুখ দেখা গেলে ধীরে ধীরে কুয়াশাও কেটে যায়। নিয়াজ আল শাহরিয়ার নামে এক শিক্ষার্থী জানান, পঞ্চগড়ে শীতের আমেজ শুরু হয়েছে। ভোর বেলা কাঁথা কম্বল গায়ে দিতে হচ্ছে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রাসেল শাহ জানান, সোমবার সকাল সাড়ে ৬টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত এক মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এটি। সপ্তাহ জুড়ে ২৫ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে তাপমাত্রা উঠানামা করেছে। মৌসুমি বায়ুর প্রভাব হ্রাস পাওয়ায় উত্তর পশ্চিমের বায়ুর প্রভাবে এবং ঋতু পরিবর্তনের কারণে আগাম কুয়াশা দেখা দিয়েছে। পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. সিরাজউদ্দোলা পলিন জানান, পঞ্চগড়ে আগাম শীত পড়ে। শীত ও আবহাওয়াজনিত কারণে শিশুরা ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হচ্ছে। এই কারণে বর্তমানে হাসপাতালগুলোর ইনডোর ও আউটডোরে শিশু রোগীর চাপ বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ৮২ জন শিশু রোগী ভর্তি হয়েছে। পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মো. জহুরুল ইসলাম জানান, পঞ্চগড়ে শীতের আমেজ শুরু হয়েছে। হিমালয়কন্যা হিসেবে পঞ্চগড়ে শীতের প্রকোপ বরাবরই বেশি হয়।