দেশের সব অঞ্চলে সুষম বিনিয়োগ চান ব্যবসায়ীরা

ভ্যাট আদায়ে হয়রানি বন্ধের দাবি 

ইত্তেফাক রিপোর্ট

দেশের কেবল দুই একটি অঞ্চলকে বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্ব না দিয়ে দেশব্যাপী সুষমভাবে তা ছড়িয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা। তারা মনে করেন, এটি বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের রাজস্ব আদায়, কর্মসংস্থান ও সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। এছাড়া ভ্যাট আদায়ে হয়রানির অভিযোগ তুলে তা বন্ধ করার দাবিও জানিয়েছেন তারা। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মতিঝিলে ফেডারেশন ভবনে দেশের ব্যবসায়ী চেম্বারের সভাপতিদের এক বৈঠকে ব্যবসায়ী নেতারা এসব কথা বলেন।

তারা বলেন, দেশের মোট বিনিয়োগের ৯০ শতাংশই ঢাকা ও চট্টগ্রামে। এর মধ্যে ঢাকায় ৭০ শতাংশ ও চট্টগ্রামে ২০ শতাংশ। আর অবশিষ্ট ১০ শতাংশ বিনিয়োগ সারাদেশে। অথচ সারাদেশে শিল্পায়ন হলে কর্মসংস্থান ও রাজস্বের ক্ষেত্রে তা ইতিবাচক ভুমিকা রাখত। বক্তারা এ সময় উত্তরবঙ্গে শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে বিশেষ সহায়তা প্রদান, বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলে ‘বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল’ স্থাপন এবং দিনাজপুর ও নীলফামারিতে গ্যাসলাইন স্থাপনের দাবি জানানো হয়েছে। ব্যবসায়ী  নেতৃবৃন্দ ভ্যাট আদায়ের ক্ষেত্রে রাজস্ব বিভাগের হয়রানির অবসান চান। বৈঠকে  দেশের বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ী চেম্বারের নেতারা স্ব স্ব এলাকার ব্যবসায়িক সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। কাউন্সিল অব চেম্বার প্রেসিডেন্টস এর সভাপতি ও এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহ-সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিমের সভাপতিত্বে্ এতে প্রধান অতিথি ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন চেম্বারের সভাপতি রেজাউল ইসলাম মিলন বলেন, জেলা পর্যায়ে যে কোন ব্যবসা শুরুর জন্য জেলা চেম্বার অব কমার্স থেকে অনুমতি নেয়ার বিধান রাখা দরকার। এছাড়াও ব্যবসা বা  শিল্প স্থাপনের আগে সেই বিনিয়োগের ধরন কি হবে, পণ্যের চাহিদা ও যোগান ইত্যাদি স্থানীয় চেম্বারগুলোর সাথে আলোচনা করে নেয়ার নীতিমালা থাকার দাবি জানান। তিনি করের হার না বাড়িয়ে করের আওতা বাড়ানোর উপর গুরুত্ব দেন। এছাড়াও রংপুরে একটি ‘বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল’ স্থাপনের দাবি জানান।

খুলনা চেম্বারের সভাপতি কাজী আমিনুল হক বলেন, ভ্যাট আদায় কার্যক্রমে জেলা চেম্বারকে স্থানীয় রাজস্ব কর্মকতারা গুরুত্ব দেন না। রাজস্ব আদায় প্রক্রিয়ায় হয়রানি বন্ধ করতে হবে এবং একই করদাতাকে বারবার চাপ না দিয়ে করের আওতা বাড়াতে হবে।

এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন এফবিবিসিসিআইয়ের বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম উইমেন চেম্বাবের সভাপতি মনোয়ারা হাকিম আলী, রাঙ্গামাটি চেম্বারের সভাপতি বেলায়েত হোসেন, সিলেট উইমেন চেম্বারের সভাপতি স্বর্ণলতা রায়, লক্ষীপুর চেম্বারের প্রতিনিধি দেওয়ান সুলতান আহমেদ প্রমুখ।