সহজ শর্তে ঋণ পরিশোধ ও দীর্ঘমেয়াদে সুবিধা দাবি
আলাউদ্দিন চৌধুরী
২০১৭ সালে আলুর অস্বাভাবিক দর পতনে ক্ষতির রেশ কাটেনি এখনও। সে সময় ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে হিমাগারে আলু রেখে লোকসান গুণেছেন চাষিসহ ব্যবসায়ীরা। প্রতি কেজি আলু উত্পাদনে ১৪ টাকা খরচ হলেও সে সময় বাজার মূল্য নেমে এসেছিল ৩/৪ টাকায়। ফলে বিপুল অঙ্কের লোকসান গুণতে হয়। ব্যাংক ঋণ পরিশোধ না করতে পারায় নতুন করে ঋণও পাচ্ছে না তারা। এর ফলে আসছে মার্চ মাসের মৌসুমে আলুর বাজার নিয়ে চিন্তিত ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে ২২টি ব্যাংকের মোট ১০৮টি হিমাগার প্রকল্পে অর্থায়ন রয়েছে। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ঋণের স্থিতি ছিল ১ হাজার ৪৪৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৭৪৪ কোটি ৬৬ লাখ টাকা অনিয়মিত ঋণে পরিণত হয়েছে। এখন তারা ঋণ পরিশোধে সহজ শর্তের নানা সুযোগ চেয়েছেন সরকারের কাছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএসএ) প্রেসিডেন্ট মো. মোশারফ হোসেন ইত্তেফাককে জানান, এক দশক আগেও দেশে ৪০ থেকে ৫০ লাখ মেট্রিক টন আলু উত্পাদিত হতো। ২০১৭ সালের মৌসুমে দেশে প্রায় ১ কোটি ১৩ লাখ মেট্রিক টন আলু উত্পন্ন হয়েছিল। সে সময় আলুর মূল্য অস্বাভাবিক কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছিল আলু চাষিরা। অ্যাসোসিয়েশনের হিসাব অনুযায়ী ঐ বছর আলু চাষি, ব্যবসায়ী ও হিমাগার মালিকদের সম্মিলিত লোকসানের পরিমাণ ছিল প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা। আলুর দর এতটাই পতন হয়েছে যে, হিমাগারে রাখা আলু তুলতে আসেনি অনেক চাষি ও ব্যবসায়ীরা। বড় ব্যবসায়ীদের অনেকেই ক্ষতি কিছুটা কাটিয়ে উঠতে পারলেও বেশির ভাগ হিমাগার মালিক ২০১৭ সালে ঋণের কিস্তি ও দায়দেনা পরিশোধে ব্যর্থ হন। নতুন করে ঋণ না পেলে আসছে মৌসুমে তাদের অনেকেই ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। সরকারি ব্যাংকের ঋণের পাশাপাশি বেসরকারি বিভিন্ন ব্যাংকের ঋণ পরিশোধে বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এজন্য ২০ বছর মেয়াদে ঋণ পরিশোধসহ অন্যান্য কৃষি শিল্পের মতো হিমাগার শিল্পের বিদ্যুত্ বিলের উপর ২০ শতাংশ রিবেট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে বছরে গড়ে প্রায় ১ কোটি টন আলু উত্পন্ন হচ্ছে। তার মধ্যে বাত্সরিক আলুর চাহিদা ৮০ থেকে ৮৫ লাখ টন। বাড়তি থেকে যায় ১৫ থেকে ২০ লাখ টান আলু। গুণগত মান নিশ্চিত না করায় আলু বিদেশে রপ্তানিও করা যায় না। অন্যদিকে দেশে মানুষের খাদ্যাভ্যাসের কারণে আলুর ব্যবহার বাড়ছে না। এজন্য খাবারে আলুর ব্যবহার বাড়াতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে উদ্বুদ্ধকরণ ও সচেতনা বৃদ্ধির কর্মসূচি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যদি সরকারিভাবে ত্রাণকার্য বা বিজিএফ-ভিডিজি বা কাবিখার চালের সঙ্গে আলু বিতরণের পদক্ষেপ নেওয়া হতো তাহলে হিমাগারগুলোর সংরক্ষিত আলুর ব্যবহার বৃদ্ধি পেত।