মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায়...

>> আরিফুল হাসান শুভ

 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, বিশ্বে প্রতি চারজনে একজন মানুষ মানসিক সমস্যায় ভোগে। কিন্তু মানসিক স্বাস্থ্য সুন্দর জীবনের জন্য যতটা গুরুত্বপূর্ণ—ঠিক ততটাই উপেক্ষিত। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিকাল সাইকোলজি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মুরাদ আনসারী। তিনি মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সংগঠন সাইকিউর ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা। ‘পাশে আছি’ নামে নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগ ভিত্তিক ক্লাব হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে তা সংগঠন হিসেবে পৌঁছে গেছে আপন উচ্চতায়। ক্যাম্পাসের সীমা পেরিয়ে এর কার্যক্রম এখন জাতীয় পর্যায়ে। মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে মুরাদের এই সংগ্রামের স্বীকৃতি হিসেবে সম্প্রতি তিনি অর্জন করেছেন ইয়ং গ্লোবাল চেঞ্জ মেকারর্স অ্যাওয়ার্ড ২০২১। মুরাদ জানান, ‘মূলত, জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার পক্ষে কাজ করে যারা পরিবর্তন নিয়ে আসছে এমন তরুণদের ‘ওয়াইইএফ গ্লোবাল’ এই স্বীকৃতি দিয়ে থাকে। আবেদনের জন্য বয়স হতে হয় ১৮ থেকে ২৬ বছরের মধ্যে এবং এক থেকে দুই বছরব্যাপী কাজ দেখাতে হয়।’

রাইজিং ইমপ্যাক্ট মেকার ক্যাটাগরিতে তিনি এই অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন। এছাড়া সাইকিউর ফাউন্ডেশন ২০২০ সালে জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড অর্জন করে।

দৈনিক ইত্তেফাককে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে মুরাদ বলেন, ‘আবেদন করার সময় তেমন আত্মবিশ্বাস ছিল না; কারণ অনেক বড় মঞ্চ, প্রতিযোগীও অনেক। কিন্তু  নিজের নাম ঘোষণা হওয়ার পর যেমন আশ্চর্য হয়েছি,  তেমনি আনন্দের মাত্রাটাও ছিল অনেক বেশি।’

নিয়মিত মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক নানা কর্মশালা আয়োজনের পাশাপাশি তাদের মূল কার্যক্রম সরাসরি মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান। মূলত ফি দিতে হলেও শিক্ষার্থী বা অভাবী মানুষের জন্য বিনামূল্যেও সেবাটি প্রদান করা হয়ে থাকে।

দেশে বিপুল সংখ্যক মানুষ মানসিক জটিলতায় ভুগলেও শতকরা মাত্র ৭ থেকে ৮ মানুষ চিকিত্সকের পরামর্শ নিয়ে থাকে বা এতে আগ্রহ প্রকাশ করে। অপরদিকে মনোচিকিত্সকের সংখ্যাও কম।

মুরাদ বলেন, ‘মানুষ তার মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সবসময়ই সংবেদনশীল। মানসিক সমস্যায় মনোচিকিত্সকের পরামর্শ নিতে গেলে অন্যরা তাকে উন্মাদ বলবে—এই সংকোচ বোধ একটি বড় বাধা হিসেবে কাজ করে। সেক্ষেত্রে অনলাইন সেবা মানুষ সাদরে গ্রহণ করছে।’