‘নিজেকে ভালোবাসতে হবে’

>> তাসনিমুল হাসান উদয়

দেশের একটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতেন মেধাবী শিক্ষার্থী ইমরুল কায়েস। দীর্ঘদিন ধরে ছিলেন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত, ভুগছিলেন বিষণ্নতায়। করোনাকালে যা আরো তীব্র আকার ধারণ করে। শেষ পর্যন্ত তিনি বেছে নেন আত্মহত্যার পথ! বিশ্বে প্রতি চল্লিশ সেকেন্ডে অন্তত একজন ব্যক্তি আত্মহত্যা করে। বছরে সংখ্যাটি আট লাখের কাছাকাছি। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশেও বিশাল জনগোষ্ঠী ভুগছে মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যায়। যার ফলে প্রতিবছরই বাড়ছে আত্মহত্যার হার। প্রতিবারের মতো এই বছরও ১০  অক্টোবর পালিত হলো ‘বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস’। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘একটি অসম বিশ্বে মানসিক স্বাস্থ্য’। ‘লাইফ স্প্রিং’র সহ প্রতিষ্ঠাতা এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সাইদুল আশরাফ দৈনিক ইত্তেফাককে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেন, ‘আমাদের দেশে মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যাগুলোর ক্ষেত্রে অন্যের কাছে সাহায্য চাওয়ার প্রবণতা অনেক কম। বিষণ্নতা কাটিয়ে উঠতে হলে সবার আগে এই জড়তা এবং ভয়কে অতিক্রম করতে হবে। এক্ষেত্রে পরিবার এবং কাছের বন্ধুদের এগিয়ে আসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

বিষণ্নতার লক্ষণগুলো সঠিকভাবে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। একজন বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে নিয়মিত কাউন্সিলিং এবং ক্ষেত্রবিশেষে ওষুধের মাধ্যমে বিষণ্নতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। বিষণ্নতার মতো মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যাগুলো সারা পৃথিবীতেই ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়াও বর্তমান বিশ্বে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ক্ষতিকর প্রভাব এবং তরুণদের মাঝে তৈরি  হওয়া প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব তাদের মানসিক স্বাস্থ্যকে আরো ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। তাই তরুণদের এক্ষেত্রে আরো দায়িত্বশীল আচরণ করার পরামর্শ দেন তিনি।

তরুণদের উদ্দেশ্যে ডা. সাইদুল আশরাফ বলেন, ‘নিজের ব্যক্তিত্ব এবং আগ্রহের জায়গা অনুসারে প্রতিটি তরুণের উচিত অন্তত একজন মেন্টরের পরামর্শ গ্রহণ করা। এতে করে কর্মজীবন এবং একাডেমিক জীবনে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ অনেকটাই সহজ হয়। পাশাপাশি নিজের দক্ষতা এবং যোগ্যতার ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে। সেইসঙ্গে মনে রাখা চাই,  প্রত্যেকেরই জীবনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন এবং নিজেকে অবশ্যই ভালোবাসতে হবে।’