সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন স্বাধীনতা ও একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. ইনামুল হক। তার বাসা, বুয়েট ও বনানী কবরস্থান জামে মসজিদে তিন দফা জানাজা শেষে গতকাল মঙ্গলবার বাদ জোহর তাকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর আগে শেষবিদায় জানাতে এই বর্ষীয়ান অভিনেতার মরদেহ গত সোমবার নেওয়া হয়েছিল বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে। আর গতকাল কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) শ্রদ্ধা জানানোর জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। সোমবার দুপুরে ড. ইনামুল হক ইন্তেকাল করেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।
শহিদ মিনারে ড. ইনামুল হকের প্রতি শ্রদ্ধা জানান সরকারের মন্ত্রীবর্গ, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, তার দীর্ঘদিনের সহকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ। সকালে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য ড. ইনামুল হকের মরদেহ শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে নেওয়া হয়। তার কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে এসে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন আরেক অভিনেতা আবুল হায়াত। বন্ধুর কফিনে ফুল দেওয়ার সময় তিনি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি। মেয়ে নাতাশা হায়াত পাশ থেকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন, কিন্তু আবুল হায়াতের কান্না থামছিল না। শ্রদ্ধা নিবেদন পর্বে ইনামুল হকের দুই মেয়ে হূদি হক ও প্রৈতি হক, তাদের জামাতা অভিনেতা লিটু আনাম ও সাজু খাদেমও উপস্থিত ছিলেন।
সেখানে শ্রদ্ধা জানান তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অসীম কুমার উকিল ও সংসদ সদস্য মেহের আফরোজ চুমকি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, নাট্যজন নাসির উদ্দিন ইউসুফ, আবুল হায়াত, অভিনেত্রী শাহনাজ খুশি, তানজিকা আমিন, নাতাশা হায়াত, মোমেনা চৌধুরী, বৃন্দাবন দাস, মীর সাব্বির, নির্মাতা অরণ্য আনোয়ারসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
এছাড়া মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, বাংলাদেশ বেতার-টেলিভিশন শিল্পী সংস্থা, বাঙালি সাংস্কৃতিক বন্ধন, আওয়ামী লীগ সাংস্কৃতিক বিষয়ক উপকমিটি, বাংলাদেশ মহিলা সমিতি, আওয়ামী যুবলীগ, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, টেলিভিশন নাট্যকার সংঘ, ফেডারেশন অব টেলিভিশন প্রফেশনালস অর্গানাইজেশন, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন করে।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ‘ড. ইনামুল হকের মতো এমন একজন গুণী মানুষের হঠাত্ প্রস্থান, সত্যিকার অর্থেই জাতির জন্য বেদনার, আমাদের সবার জন্য বেদনার। তার মৃত্যু জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।’
নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালেদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আজীবন তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে লালন করেছেন। তার কর্ম আমাদের আগামীদিনে পথ দেখাবে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘ড. ইনামুল হক শুধু একজন অধ্যাপক হিসেবেই নন, একজন সমাজকর্মী, একজন সমাজ সংস্কারক, একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবেও স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।’
মেয়র ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘এই শূন্যতা আসলে পূরণ হবে না। তিনি মানুষের হূদয়ে বেঁচে থাকবেন। তরুণ প্রজন্মের কাছে তিনি আদর্শ হয়ে থাকবেন।’
ড. ইনামুল হকের মেয়ে হূদি হক বলেন, ‘ড. ইনামুল হক আসলে সবার ছিলেন। ওনার ভাবনায়, চিন্তায়, চেতনায় ছিল বাংলাদেশ, বাংলাদেশের মানুষ। যে ভালোবাসা তিনি মানুষকে দিয়েছিলেন, মানুষও তাকে সেই ভালোবাসা দিচ্ছেন।’