বইমেলায় আজ লাগবে ফাগুনের দোলা

এসেছে বসন্ত। সেই শিহরণ প্রকৃতিজুড়ে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে ভেসে আসে পাখির ডাক। চারদিকে শুকনো পাতার ওড়াওড়ি। প্রকৃতিতে বসন্তের আবাহন। আজ পহেলা ফাল্গুন, ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন। সেই আনন্দের রং লাগবে মেলায়। তরুণ-তরুণীরা আজ মেতে উঠবে বসন্ত আবাহনে।

পহেলা বসন্ত আর ভালোবাসা দিবস পরপর হওয়ায় তার রেশ মেলায় পড়তে শুরু করে আগে থেকেই। বাসন্তী শাড়ি পরে, খোঁপায় পলাশ ফুল গুঁজে মেয়েদের ঘুরে বেড়ানো মেলায় উত্সবের রং বুলিয়ে দেয়।

গতকাল মাঘের শেষ দিনেও মেলায় ছিল বসন্তের আবহ। ঝিরঝিরে পাতা ঝরার শব্দের মত দলে দলে মানুষ এসেছিলেন মেলায়। তরুণীদের পোশাকে ছিল বসন্তের ছোঁয়া। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে, বাংলা একাডেমির গাছে গাছে কোকিলের   কুহু কুহু ডাক মেলায় আগতদের জানান দিল বসন্ত এসে গেছে। বসন্ত যেমন প্রেমের রং ছড়ায় তেমনি মানুষের মনে বিদ্রোহের আগুনও কী জ্বেলে দেয়! মলয় সমীরণ তো সেই ১৯৫২ সালেও ছড়িয়েছিল বিদ্রোহের বীজ। একুশে আজো মানুষের হূদয়ে ছড়ায় বিদ্রোহের মন্ত্র। সত্য, সুন্দরের পক্ষের সেই মন্ত্রের টানে বইমেলায় আসেন বৃদ্ধ, যুবক। ছোট শিশু কিশোরদের নিয়ে মা-বাবারা আসেন মেলায়। একুশের চেতনায় ভাস্বর এই বইমেলা ভবিষ্যত্ প্রজন্মের মাঝে ছড়াবে শিক্ষা ও দেশের প্রতি ভালবাসার আলো— সেই প্রত্যাশায়। বইমেলার উত্সবের সঙ্গে পহেলা ফাল্গুন ও ভ্যালেন্টাইন ডে দুটি দিন উত্সবমুখর হয়ে ওঠে। মেলায় এদিন পাঠকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ মেলার শোভা বাড়ায়। পাশাপাশি দুটি দিনে বইয়ের বিকিকিনিও থাকে বেশ। উপন্যাস, গল্প ও কবিতার বইয়ের চাহিদা বেশি থাকে।

নতুন বই :বাংলা একাডেমির জনসংযোগ উপবিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, মঙ্গলবার মেলার ১২তম দিনে নতুন ১৪৯টি বই প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— ইমদাদুল হক মিলনের ‘উপন্যাস ত্রয়ী’ (পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স), সেলিনা হোসেনের ‘রচনাবলী ১’ (ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ), শাহাবুদ্দিন আহমেদের ‘আমার মুক্তিযুদ্ধ’ (অন্যপ্রকাশ), মোস্তফা কামালের ‘আমি কবি’ (অন্যপ্রকাশ), মোশতাক আহমেদের ‘ববির ভ্রমণ’ (অনিন্দ্য প্রকাশ), আমীন আল রশীদের ‘বাংলাদেশের গণমাধ্যম: জনআস্থার দোলাচল’, অনু হোসেনের ‘সমকালে রবীন্দ্রনাথ’ (বাতিঘর), ধ্রুব এষের ‘কু ঝিক ঝিক’ (পাঞ্জেরী), আবুল আহসান চৌধুরীর ‘লালনের ঈশ্বর ও অন্যান্য’ (জার্নিম্যান), সৈয়দ শামসুল হকের ‘পীরচাঁনের পালা’ (চারুলিপি), মোস্তফা মামুনের ‘লেবাননী জাদুকর’ (পার্ল পাবলিকেশন্স), রেজাউর রহমানের ‘অচেনা আবাস’ (ঐতিহ্য), মারুফুল ইসলামের ‘সাতজনের সংসার’ (চন্দ্রাবতী একাডেমি)।

মনিরউদ্দীন ইউসুফকে শ্রদ্ধাঞ্জলি :গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় কবি-অনুবাদক মনিরউদ্দীন ইউসুফ: জন্মশতবর্ষ শ্রদ্ধাঞ্জলি শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন হাসান হাফিজ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন শফিউল আলম, রেজাউদ্দিন স্টালিন এবং মোহাম্মদ আবদুল হাই। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মোহাম্মদ হারুন-উর-রশিদ।

লেখক বলছি: অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন প্রকাশিত গ্রন্থ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেন আখতারুজ্জামান আজাদ, মোহিত কামাল, বেগম আকতার কামাল, হামিম কামাল এবং নাসরিন সিমি। কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ করেন কবি জাহিদুল হক এবং জাহিদ হায়দার। আবৃত্তি পরিবেশন করেন নাজমুল আহসান এবং জিনিয়া ফেরদৌস। সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী কল্যাণী ঘোষ, বিশ্বজিত্ রায়, ফারহানা ফেরদৌসী তানিয়া, সানজিদা মাহমুদ নন্দিতা, রাজিয়া সুলতানা, নাজমুল আহসান তুহিন, উম্মে রুমা ট্রফি এবং সঞ্জয় কুমার দাস।