আলিশা মার্টে দেওয়া টাকা ফেরত পেতে গতকাল রাজধানীর বনানীর দুই অফিসে শত শত গ্রাহকের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সম্প্রতি ই-কমার্স ভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় আলিশা মার্টের গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। যে কোনো সময় আলিশা মার্টের মালিকপক্ষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়তে পারে—এমন আতঙ্ক বিরাজ করছে গ্রাহকদের মধ্যে। এ কারণে গতকাল বুধবার শত শত গ্রাহক ভিড় করে বনানীর দুই অফিসে। দিনব্যাপী ঐ দুই অফিসে ভিড় সামাল দিতে পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়।
বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউয়ের ৬৫/বি, এসুরেন্স নাজির টাওয়ারের নবম তলায় আলিশা মার্টের অফিস। এছাড়া ৬, কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউয়ের প্রাসাদ ট্রেড সেন্টারের তৃতীয় তলায় আলিশা মার্টের আরো একটি অফিস রয়েছে। এই দুই অফিসে গ্রাহকদের এমন ভিড় হয় যে প্রবেশ করতে না পেরে ভবন দুইটির সামনে দিনভর জড়ো হতে থাকেন তারা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন গ্রাহক বলেন, তিনি সাড়ে ৬ লাখ টাকার প্রডাক্ট কেনার জন্য টাকা পরিশোধ করেছেন। কিন্তু এক মাস হয়ে যাওয়ার পরও পণ্য না পাওয়ায় তিনি আলিশা মার্টের কাছে টাকা ফেরতের আবেদন করেন। অবশ্য প্রতিষ্ঠান থেকে বলা হয়েছে রবিবার তাকে চেক দেওয়া হবে।
আরেকজন গ্রাহক বলেন, লাভের আশায় তিনি আলিশা মার্টে ৯ লাখ টাকার প্রডাক্টের অর্ডার দিয়েছেন। কিন্তু আস্থা না পাওয়ায় তিনি বুধবার টাকা ফেরতের আবেদন করেন। এ ব্যাপারে আলিশা মার্টের কোনো কর্মকর্তাই গণমাধ্যমের কাছে বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
বনানী থানার ওসি নূরে আযম মিয়া বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশ অনুযায়ী প্রতিদিন একটি ই-কমার্স ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকার লেনদেন করতে পারবেন। এ কারণে একটি নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ করে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে। গ্রাহকদের ভিড় সারা দিনই লেগেছিল। তবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।