সকল মাদক ও অস্ত্র মামলার তদন্ত এক মাসের মধ্যে সম্পন্ন করতে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। এ সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট আদালতের কাছে তাদেরকে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া মাদক ও অস্ত্র মামলার তদন্ত তদারকির জন্য প্রতিটি জেলায় মনিটরিং সেল গঠন করতে পুলিশের আইজিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত এক মামলার শুনানি শেষে বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. রিয়াজউদ্দিন খানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এই আদেশ দেন।
আদালত বলেছে, দেখা যায় অনেক মাদক মামলায় পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নামে পুলিশ দীর্ঘ সময় নিয়ে থাকে। কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদিচ্ছা থাকলে ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করতে পারে। তবে অনেক ক্ষেত্রেই তা না করায় মাসের পর মাস, বছরের পর বছর চলে যায় কিন্তু চার্জশিট দাখিল হয় না। এ অবস্থায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাদের তদন্তের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার প্রয়োজন। হাইকোর্ট বলেছে, বাস্তবতা হচ্ছে তদন্ত দ্রুত শেষ হলে বিচারে বিলম্ব হয় না। যদি তদন্তে বিলম্ব হয় তাহলে বিচারও ঝুলে যায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারের মন্ত্রীরা বলেছেন দ্রুত মাদক ও অস্ত্র মামলা নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন। এজন্য তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত দেওয়ার বিকল্প নেই।
এদিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ৩ লাখ ৫০ হাজার ৭২১টি মাদক মামলা তদন্ত পর্যায়ে রয়েছে। চলতি বছরে সেটা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।
জানা গেছে, গত বছরের ২৯ নভেম্বর জয়দেবপুর থানার এসআই মো. আব্দুল হালিমের নেতৃত্বে একদল পুলিশ দশ পিস ইয়াবাসহ রাজু আহমেদ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। ওই আসামির স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে নরওয়ে প্রবাসী এবং বাংলাদেশ-নরওয়ে ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ড. নুরুল ইসলাম শেখসহ তিনজনকে এ মামলায় আসামি করে। গত বছরের ৫ ডিসেম্বর হাইকোর্ট নুরুল ইসলামকে আগাম জামিন দেয়। একই সঙ্গে এ মামলায় প্রবাসী ওই ব্যক্তিকে কীভাবে আসামি করা হলো সে ব্যাপারে তদন্ত করে গাজীপুরের এসপিকে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলে। গত ১৭ ডিসেম্বর ওই তদন্ত প্রতিবেদন পেয়ে আদালত মামলার বাদী এসআই আব্দুল হালিমকে তলব করে। ওই তলব আদেশে এসআই গতকাল আদালতে হাজির হন। আদালত তাকে সতর্ক করে দিয়ে উপরোক্ত নির্দেশনা দেয়। পাশাপাশি দুই সপ্তাহের মধ্যে তাকে জয়দেবপুর থানা থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালত বলেন, ড. নুরুল ইসলাম শেখ সমাজের প্রতিষ্ঠিত ও সম্মানিত ব্যক্তি। শত্রুতা থেকে রাজু আহমেদ তার নাম জড়িয়ে দিয়েছে। পরে তদন্ত কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম শেখকে বাদ দিয়ে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। আদালতে নুরুল ইসলামের পক্ষে আইনজীবী ফারুক আলমগীর চৌধুরী ও রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ সারওয়ার কাজল উপস্থিত ছিলেন।