ক্রটিপূর্ণ নলকা সেতুর কারণে সিরাজগঞ্জে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম সংযোগ সড়ক মহাসড়কের প্রায় ৫০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র যানজটের তীব্র সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে মাত্র ১০ কিলোমিটার সড়ক পার হতে সময় লেগেছে ১৭ ঘণ্টা। যানজটের কারণে বৃহস্পতিবার (১৪ অক্টোবর) ভোররাত ৪ টা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতুতে টোল আদায় বন্ধ করেছে সেতু কর্তৃপক্ষ।
প্রতিদিন উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ২০ জেলার প্রায় ২৫ হাজার যানবাহন চলাচল করে নলকা সেতুর ওপর দিয়ে। কিন্তু দীর্ঘদিন সড়ক ও জনপথ বিভাগ সেতুটি সংস্কার না করায় দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা। স্থানীয়রা বলছেন সেতুটির কারণেই এ সড়কে যানজট লেগেই থাকে। এ তথ্য জানা সত্যেও সড়ক ও জনপথ বিভাগ সেতুটি সংস্কারে তেমন কোন উদ্যোগ নেয়নি। এতে এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই সড়কে গত কয়েক দিন যানজট অব্যাহত থাকায় বুধবার (১৩ অক্টোবর) থেকে তে আরও তীব্র আকার ধারণ করে। যানজটের কারণে বৃহস্পতিবার (১৪ অক্টোবর) সারা রাত মহাসড়কেই নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন উত্তরবঙ্গবাসী। এ সময় নায়ারণগঞ্জ থেকে লালমনিরহাটগামী শমসের আলী নামে একজন যাত্রী বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে জানান, বুধবার সন্ধ্যায় বাসে উঠেছি। এখনও সিরাজগঞ্জেই পড়ে আছি। কখন গন্তব্যে পৌঁছাবো জানা নেই।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী গরু ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের জানান, হাটিকুমরুল গোলচত্বর বুধবার বিকেল ৫টার দিকে অতিক্রম করলেও ১০ কিলোমিটার সড়ক পার হতে সময় লেগেছে ১৭ ঘণ্টা। ট্রাকে থাকা ২২ লক্ষ টাকার গরু নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় আছি।
এ ব্যাপারে কামারখন্দ সার্কেলের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার শাহীনুর কবীর জানান, ক্রটিপূর্ণ নলকা সেতুর কারণে প্রায় সময়ই সেতুর দুই পাশে যানজট লেগেই থাকে। বুধবার থেকে যানজট তীব্র আকার ধারণ করে। পরে সড়ক ও জনপথ বিভাগ নলকা সেতুটি কিছুটা সংস্কার করলে যানবাহন চলাচল শুরু করে। কিন্তু যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ থাকায় যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগবে।
সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দিদারুল আলম তরফদার জানান, সেতুটির ওয়েরিং উঁচু নিচু হওয়াতে যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করেছে। এতে প্রতিদিনই যানজটের সৃষ্টি হয়, রাতে তীব্র আকার ধারণ করে। ওয়েরিং সংস্কার করতে গিয়ে সেতুটিকে একটি গর্ত পাওয়া যায়। ওয়েরিং ও গর্ত মেরামত করে দেয়া হয়েছে। যানবাহন চলছে। আগামী দুইদিন পর সেতুটির এ্যাপ্রোস দুটি মেরামত করে দেয়া হবে। তখন সেতুটির ওপর দিয়ে নির্বিঘ্নে যানবাহন চলাচল করতে পারবে।
ইত্তেফাক/ইআ/এএইচপি