ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন

হোল্ডিং ট্যাক্স নিয়ে গ্রাহক হয়রানি

হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ করেও হয়রানির শিকার হচ্ছেন গ্রাহকরা। যারা নিয়মিত হোল্ডিং ট্যাক্স প্রদান করেন তারাও ১০ শতাংশ রিবেট সুবিধা তো পানই না, বরং সিটি কর্পোরেশনের আঞ্চলিক অফিসগুলোতে নানা হয়রানির শিকার হন। অথচ যারা নিয়মিত ট্যাক্স প্রদান না করে ৩-৪ বছর পর একবারে পরিশোধ করেন তারা উল্টো ১০ শতাংশ রিবেট সুবিধা পান। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অঞ্চল-২(খিলগাঁও) এলাকায় এমন ঘটনা ঘটেছে।

আবার নিয়মিত ট্যাক্স প্রদান করা গ্রাহকদের লেজার বুক পরীক্ষা না করেই ট্যাক্সের জন্য সিটি কর্পোরেশন থেকে চিঠি পাঠিয়ে হয়রানি করা, সিটি কর্পোরেশনের লোক বাসায় গিয়ে তাগাদা দেওয়া, অনেক গ্রাহক ব্যাংকে কর পরিশোধ করার পর সেটা লেজার বুকে পোস্টিং না দিয়ে আবারও হাতে লিখে ট্যাক্স গ্রহণ করা হয়-এমন অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।

রাজধানীর শহীদবাগ এলাকার গ্রাহক শামসুল হায়দার জানান, দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অঞ্চল-২ এর অফিসে গিয়ে তিনি নিয়মিত কর প্রদান করেন। কোনো ধরনের রিবেট সুবিধা পান না। উল্টো হয়রানির শিকার হন। ট্যাক্স প্রদান করলেও তার কাছে সিটি কর্পোরেশনের চিঠি আসে। লেজার বুক পরীক্ষা না করেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা চিঠি পাঠান।

একই এলাকার আরেকজন গ্রাহক জানান, ২০১৭-১৮ এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরের হোল্ডিং ট্যাক্স দিতে ডিএসসিসি’র অঞ্চল-২ এ গেলে সংশ্লিষ্ট কর কর্মকর্তা জানিয়ে দেন, কোনো রিবেট সুবিধা দেওয়া যাবে না। অথচ যারা নিয়মিত ট্যাক্স পরিশোধ করেন না, তারা রিবেট সুবিধা পান। ৩-৪ বছরের হোল্ডিং ট্যাক্স সংগ্রহ করতে সিটি কর্পোরেশন থেকে চিঠি দিয়ে অনিয়মিত ট্যাক্স প্রদানকারীদের রিবেট সুবিধা দেওয়া হয়।

শাহজানপুর এলাকার একজন বাসিন্দাকে ডিএসসিসি থেকে প্রেরিত এক চিঠিতে এর প্রমাণ পাওয়া যায়। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, সাত দিনের মধ্যে ২০১৭-২০১৮ এবং ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের টাকা পরিশোধ করে ১০ শতাংশ রিবেট সুবিধা নেওয়ার অনুরোধ করা হলো। চিঠির স্মারক নং ৪৬.২০৭.০০০.২৪.৩৭৯৭৭৬/২০১৯।

এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মো. ইউসুফ আলী সরদার বলেন, বকেয়ার উপর গত বছরের অক্টোবর পর্যন্ত রিবেট সুবিধা দিয়েছিলাম, এর পরে রিবেট সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই।