বোম্বাই মরিচ এখন রপ্তানি হচ্ছে

আবুল কাসেম ভূঁইয়া

 

আমাদের দেশে বিভিন্ন জাতের প্রচলিত মরিচের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় একটি মরিচের নাম হলো নাগা মরিচ বা বোম্বাই মরিচ। অনেকেই এই মরিচ শখ করে ছাদবাগানে অথবা বারান্দায় চাষ করেন। তবে বোম্বাই মরিচের চাহিদা এবং জনপ্রিয়তা থাকার কারণে অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে এই মরিচের চাষ করেছেন। এই মরিচ শীত এবং গ্রীষ্ম উভয় মৌসুমে চাষ করা যায়। এই মরিচের চারা রোপণের পর একটু যত্ন নিলে এক মাসের মধ্যে ফলন আসে। যে কোনো জায়গায় এই মরিচের চাষ করা যায়। ছাদে টবেও এর ভালো ফলন হয়। বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চল ছাড়াও ভারতের মনিপুর, নাগাল্যান্ড, আসাম, নেপাল, থাইল্যান্ড এবং শ্রীলঙ্কায় বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে এ মরিচের ব্যাপক চাষ হয়। মূলত সুগন্ধ আর স্বাদের কারণেই এই মরিচের এত কদর। এই মরিচের আবার বিভিন্ন নাম রয়েছে। অনেকেই এই মরিচকে নাগা মরিচ, বোম্বাই মরিচ, কামরাঙ্গা মরিচ, রাজা মরিচ, নাগাহরি, সাপের বিষ কিংবা ভূত মরিচ নামে আখ্যায়িত করে থাকেন।

আমাদের দেশের মাটি এবং জলবায়ু এই মরিচ চাষের জন্য খুবই উপযোগী। শীত এবং গ্রীষ্ম উভয় সময় এই মরিচের বাণিজ্যিক চাষ করা যায়। ফসলের প্রাথমিক অবস্থায় অল্প বৃষ্টিপাত এবং ফসলের বাড়তির সময় পরিমিত বৃষ্টি হলে মরিচের ফলন ভালো হয়। অতিরিক্ত এবং পরিমাণের কম বৃষ্টিপাত মরিচের জন্য ক্ষতিকর। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতে ফুল ও ফল ধরা কমে যায় এবং অধিক আর্দ্রতায় ফল পচে যায়। ছায়ামুক্ত এবং উঁচু স্থানে অর্থাত্ যেখানে পানি জমে থাকে না সেখানে এই মরিচের চারা রোপণ করতে হয়। দোআঁশ মাটি এই মরিচ চাষের জন্য খুবই উপযোগী। মাটির পিএইচ ৫.৫-৭০ এর মধ্যে থাকতে হবে। চারা রোপণে সারি থেকে সারির দূরত্ব ৬০-৭০ সে. মি. এবং চারা থেকে চারার দূরত্ব ৩০-৪০ সে.মি. রাখতে হয়। চারা বিকালে লাগাতে হয় এবং চারা রোপণের পর দুই-তিন দিন সকাল-বিকাল পানি দিতে হয়। মরিচের জমিতে হেক্টরপ্রতি ১০ টন গোবর, ২৫০ কেজি ইউরিয়া, ২০০ কেজি টিএসপি এবং ১৫০ কেজি এমওপি প্রয়োগ করতে হয়। জমি তৈরির সময় ৫০ কেজি এমওপি সার দিতে হয়। চারা রোপণের ২৫ দিন পর ৮৪ কেজি ইউরিয়া, ৩৪ কেজি এমওপি সার প্রথম প্রয়োগ করতে হয়। চারা লাগানোর ৫০ দিন পর ২য় এবং ৭০ দিন পর তৃতীয় কিস্তির সার প্রয়োগ করতে হয়। চারা লাগানোর দেড় মাস বা দুই মাসের মধ্যে ফুল আসে এবং ফুল আসার এক মাসের মধ্যে মরিচ খাবার   উপযোগী হয়। এই মরিচের যেমনি জনপ্রিয়তা রয়েছে তেমনি চাহিদাও রয়েছে বেশ। বাজারে অনেক উচ্চ মূল্যে এই মরিচ বিক্রি হয়ে থাকে। এখন রপ্তানিও হচ্ছে। ফলে আয় হচ্ছে   বৈদেশিক মুদ্রা।

 

 

০