পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে কেন নতুন করে অস্ত্রের ঝনঝনানি

রাত তখন দুটো, শরীর-মন ক্লান্ত। কিন্তু ঘুম ভেঙে ফোন ধরার পর অন্য প্রান্ত থেকে সে যা শুনলো, তা ছিল দুঃস্বপ্ন। তার ভাই জানায়, কয়েকজন অস্ত্রধারী বাড়িতে ঢুকে তাদের বাবাকে টেনে হিঁচড়ে বাইরে নিয়ে গুলি করে হত্যা করেছে। ‘আমার ভাই আমাকে দ্রুত বাড়িতে যেতে বলল’, জানান ইসরার (ছদ্মনাম)। এসব এলাকায় কেউই সাংবাদিকদের কাছে আসল নাম প্রকাশ করতে চায় না, ভয় পায়। ইসরারের বাবার হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পর ইসলামিক স্টেট অব খোরাসান (আইএস-কে) জঙ্গি গোষ্ঠী জানায়, এই হত্যার পেছনে তারাই ছিল। আইএস-কে সন্দেহ করেছে যে, ইসরারের বাবা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর চর ছিল।

পাশের দেশ আফগানিস্তানে এখন তালেবান আর আইএস-কের মধ্যে লড়াই চলছে। পাকিস্তানের উপজাতীয় এলাকার চিত্র আফগানিস্তানের চেয়ে আরো জটিল। পাকিস্তানের উপজাতীয় সাতটি এলাকার মধ্যে ওরাকজাই একটি। বাকিগুলো হলো, বাজৌর, মোহমান্দ, খাইবার, কুররাম, উত্তর ওয়াজিরস্তান এবং দক্ষিণ ওয়াজিরস্তান। তিন বছর আগ পর্যন্ত এসব জায়গা ছিল কার্যত স্ব-শাসিত। পাকিস্তানি আইনের বদলে এখানে চলত ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আইন। ২০১৮ সালের মে মাসে এসব উপজাতীয় এলাকা খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের অঙ্গীভূত করা হয়। চালু হয় পাকিস্তানি আইন। খবর বিবিসি বাংলার।

এ বছরের শুরু থেকে পাকিস্তানের এই উপজাতীয় এলাকাগুলোতে হঠাত্ সহিংসতা, রক্তপাত বাড়ত শুরু করে বলে জানিয়েছে ইসলামাবাদের গবেষণা সংস্থা পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব পিস স্টাডিজ (পিআইপিএস)। তেহরিকে তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি), যাদের সঙ্গে আফগান তালেবানের আদর্শিক ঐক্য রয়েছে, তাদের কারণেই মূলত নতুন করে এই সহিংসতা। আফগান তালেবানের মতো টিটিপিও চায় পাকিস্তান কট্টর শরিয়া আইনভিত্তিক একটি রাষ্ট্র হোক। পিআইপিএস-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত বছর টিটিপির ৯৫টি হামলায় ১৪০ জনের মৃত্যু হয়। কিন্তু জুলাই থেকে যখন আফগানিস্তানে তালেবান তাদের নিয়ন্ত্রণ শক্ত করতে শুরু করে, টিটিপিও পাকিস্তানে তাদের তত্পরতা বাড়িয়ে দেয়। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর এই তিন মাসেই টিটিপির চালানো ৪৪টি হামলায় মারা যায় ৭৩ জন। নিহতদের সিংহভাগই পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য।