প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আঞ্চলিক ভাষা

প্রতিটা এলাকার একটা নিজস্ব স্থানীয় ভাষা আছে, যেটাকে আমরা আঞ্চলিক ভাষা বলি। শিশু জন্মের পর যেখানে বেড়ে ওঠে সেই জায়গার আঞ্চলিক ভাষা  শেখে এবং সেই ভাষার প্রতি প্রত্যেক মানুষের শ্রদ্ধাবোধ ও ভালোবাসা থাকে। শিশুরা যখন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয় তখন থেকেই তার আনুষ্ঠানিক জীবনের শুরু। একটা রুচিশীল-সুশীল সমাজে কীভাবে চলতে হয়, তার মৌলিক বিষয়গুলো এখান থেকেই শেখা। ভদ্রতা আর রুচিশীলতার অন্যতম মাপকাঠি হলো ভাষা। কিন্তু আমাদের দেশের অধিকাংশ শিক্ষার্থীই কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েও ভালো করে শুদ্ধ ভাষা বলতে পারে না। আঞ্চলিকতা আমাদের মুখটাকে চেপে ধরে।  এর প্রধান কারণ হচ্ছে, আমরা জীবনের প্রথম যে আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠানে পা দিয়েছিলাম, সেখানে ঘরোয়া ভাষায় কথা বলে অভ্যস্ত হয়েছি। সেই থেকে আমাদের শুরু। ব্যবহারিক জীবনে শুদ্ধ ভাষার প্রয়োজনটা আমরা কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে বুঝেছি। কিন্তু তখন আনুষ্ঠানিক পরিবেশে আঞ্চলিক ভাষা পরিহার করা অনেক কঠিন হয়ে যায়। তাই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকার কাছে অনুরোধ, শিশুদের সঙ্গে শুদ্ধ বাংলায় কথা বলুন—তাদেরকে বোঝান আঞ্চলিক ভাষা আনুষ্ঠানিক পরিবেশের জন্য নয়। তাদের গোড়াটা মজবুত করে দিন। আপনারা তাদেরকে যেটা শেখাবেন, সেটা তাদের সারা জীবনে প্রভাব ফেলবে।

আহমদ রাজিয়া রুজি

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়,

সিলেট