‘সুষ্ঠু রুচির নাচের দর্শক আমাদের দেশে এখনো কম’

মণিপুরী নৃত্যশিল্পী তামান্না রহমান। এই পরিচয়ের বাইরেও তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্যকলা বিভাগের শিক্ষক এবং বাংলাদেশ ওয়ার্ল্ড ড্যান্স এলাইন্সের ভাইস প্রেসিডেন্স। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠান নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। সম্প্রতি এ প্রসঙ্গের পাশাপাশি দেশের নৃত্যচর্চার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন মোস্তাফিজ মিঠু

কেমন আছেন?

ভালো আছি। বেশ ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে সময় যাচ্ছে।

 

এখনকার ব্যস্ততা প্রসঙ্গে জানতে চাই—

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভালোবাসা দিবসে একটি বড় আয়োজনে অনুষ্ঠান হয়। সেই ধারাবাহিকতায় এবারো হচ্ছে। সেখানে আমাদের নৃত্যকলা বিভাগের একটি বড় অংশগ্রহণ থাকে। সেগুলো নিয়েই মূলত এখন ব্যস্ততা চলছে।

 

আপনার ব্যক্তিগত কাজ প্রসঙ্গে বলুন—

এখন পর্যন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু কাজের কথা চলছে। তবে সেগুলো চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত এখনই কিছু বলতে চাচ্ছি না।

 

 

 

 

 

 

 

নাচের ওপর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নিয়ে যারা কাজ করছেন, পরবর্তীতে তাদের আগ্রহের জায়গাটা কেমন থাকে?

আগ্রহ তো অবশ্যই রয়েছে। আগ্রহ আছে বলেই তারা শিখছে ও কাজ করছে। তবে হয়তো কখনো সঠিক দিকনির্দেশনার জন্য বা পরিবেশের জন্য আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।

 

শুধুমাত্র নাচ নিয়ে আমাদের দেশে বড় পরিসরে কোনো অনুষ্ঠান হয় না। এর কারণ কী বলে মনে করেন?

একবারে যে হচ্ছে না তা না। ‘বেঙ্গল ক্লাসিক্যাল ফেস্ট’ বা ‘ফোক ফেস্ট’-এ কিছুটা অংশগ্রহণ থাকে। আসলে সুষ্ঠু রুচির নাচের দর্শক আমাদের দেশে এখনো কম। এটা বাস্তবতা এবং আমি স্বীকার করবো। দর্শক রুচি গড়ে তুলতে আমাদের হয়তো অপেক্ষা করতে হবে। তবে বড় পরিসরে একটি উত্সব হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ওয়াল্ড ড্যান্স এলাইন্স থেকে একটি বড় উত্সব আয়োজন করা হচ্ছে। নভেম্বরে এই আয়োজনটি কক্সবাজারে হবে। এখানে বিভিন্ন দেশ থেকে নৃত্যশিল্পীরা আসবেন। এটি আমরা প্রতিবছর করবো।

 

দর্শকদের আগ্রহ কম থাকা নৃত্যশিল্পীদের পেশার ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলে কি-না?

আমি আসলে সেই অর্থে বলিনি যে, আমাদের দর্শক কম। সাধারণত যেসব নাচ সবাই দেখেন সেগুলোর দর্শক অনেক রয়েছে। কিন্তু আমরা যে ধরনের নৃত্যচর্চা করি সেই ধরনের নাচের দর্শক সীমিত।

 

নৃত্যশিল্পীদের পেশাদারিত্বে জায়গাটা আমাদের দেশে কতটুকু শক্ত অবস্থানে আছে মনে করেন?

এখন একটি সুযোগ নৃত্যশিল্পীদের জন্য হয়েছে। বেশিরভাগ স্কুলে এখন নৃত্য শিক্ষক রাখা হয়। সেখানে সবারই সুযোগ রয়েছে। এছাড়া যারা নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চান নৃত্যশিল্পী হিসেবে তাদের অনেকেই পারছেন। এখন অনেক শো হচ্ছে। বিভিন্ন কাজের সুযোগও তৈরি হচ্ছে। সেই জায়গা থেকে নাচকে পেশা হিসেবে নিতে চাইলে সেটি অসম্ভব মনে করি না।