ফেনীতে লাইসেন্সবিহীন সিএনজি অটোরিকশা

ফেনী প্রতিনিধি

ফেনীর সদরসহ ছয়টি উপজেলায় অবাধে চলাচল করছে লাইসেন্সবিহীন সিএনজি অটোরিকশা। অপ্রাপ্ত বয়স্ক ও অদক্ষ চালকরা প্রতিদিন শহর, গ্রামগঞ্জ ও মহাসড়কে বেপরোয়া গতিতে লাইসেন্সবিহীন এ সব সিএনজি অটোরিকশা চালাচ্ছে। ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। ফেনী জেলা বিআরটিএর পরিদর্শক জমির হোসেন ইত্তেফাককে জানান, বর্তমানে ফেনী জেলার ছয়টি উপজেলার ৯ হাজার ২০০টি সিএনজি চালিত অটোরিকশার বৈধ লাইসেন্স বিআরটি থেকে দেওয়া হয়েছে। তবে প্রায় ৩০ হাজার সিএনজি অটোরিকশার ট্যাক্স টোকেন ব্লু বুক এবং গাড়ির লাইসেন্স নেই বলে জানান তিনি। তিনি জানান, এ সব যানবাহন বিআরটি-এর আওতায় আনতে পারলে বছরে গাড়ি প্রতি ১ হাজার ৫০০ টাকা হিসেবে সাড়ে চার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করা যেত। কিন্তু বিভিন্ন চাপের মুখে এদের লাগাম ধরা যাচ্ছে না বিধায় প্রতি বছর বড় অঙ্কের রাজস্ব থেকে সরকার বঞ্চিত হচ্ছে।  

এদিকে ফেনী জেলা সিএনজি অটোরিকশা মালিক সমিতির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ফেনীর বিআরটিএ অজ্ঞাত কারণে গত কয়েক বছর যাবত্ সিএনজি চালিত অটোরিকশার লাইসেন্স দিচ্ছে না বিধায় ফেনীতে লাইসেন্সবিহীন হাজার হাজার সিএনজি চালিত অটোরিকশা চলাচল করছে। শতকরা ৮০ ভাগ চালকের কোনো লাইসেন্স নেই।

ফেনীর পুলিশ সুপার খন্দকার নুরুন নবী ইত্তেফাককে জানান, চলতি মাসের শেষ দিকে জেলা প্রশাসক ও বিআরটিএ এ সব অবৈধ সিএনজি অটোরিকশাসহ সব ধরনের লাইসেন্সবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে সভার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। জেলা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আইনুল কবির শামীমসহ ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ জানান, অপ্রাপ্ত বয়স্ক ও অদক্ষ চালকরা প্রতিদিন শহর, গ্রামগঞ্জ ও মহাসড়কে বেপরোয়া গতিতে এ সব সিএনজি অটোরিকশা চালাচ্ছে। এ কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে। প্রশাসন এদের লাগাম টেনে না ধরলে প্রতিনিয়ত হতাহতের ঘটনা ঘটতেই থাকবে। জেলা আইনশৃঙ্খলা ও সমন্বয় কমিটির সভায় বিআরটিএকে সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে অভিযান চালানোর তাগাদা দেওয়া হলেও আজ পর্যন্ত সংস্থাটির কোনো কার্যকরী ভূমিকা দেখা যায়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।